Image description

গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সচল করতে একসঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ফ্রান্স ও ব্রিটেনের যৌথ সভাপতিত্বে প্রায় ৪০টি দেশ এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছে।

 

প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কীভাবে নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা যায়, তার একটি রূপরেখা প্রণয়ন করা এই সম্মেলনের লক্ষ্য। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে। তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে।

 

ইরানের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত ২৮ ফেব্রয়ারির পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ইরান এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজগুলোর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

 

পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সোমবার (১৩ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ প্রবেশ বা বের হওয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অবরোধ কার্যকর করতে অন্যান্য মিত্র দেশগুলোকেও আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ন্যাটো মিত্ররা এতে সাড়া দেয়নি।

 

 

ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং অন্যান্য দেশ বলছে, এই অবরোধে যোগ দেওয়ার অর্থ হলো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া। তবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলে বা যুদ্ধ শেষ হলে তারা এই প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে সাহায্য করতে আগ্রহী।

 

রয়টার্স বলছে, প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যদিও ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলেছেন, যে কোনো বাস্তবসম্মত লক্ষ্য অর্জনে শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

 

এই বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এ ছাড়া এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হবেন। চীনকেও এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 

বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়

 

আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে পড়া প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই স্থবিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

 

সম্মেলন থেকে ওমানে একটি পরিচালনা কেন্দ্র (অপারেশনাল সেন্টার) স্থাপনের ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হলে জার্মানি এই অভিযানে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে তিনি বিষয়টিকে জাতিসংঘের কাঠামোর অধীনে দেখার পক্ষপাতি।

 

অন্যদিকে ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বুঝে এই অভিযানে মাইন অপসারণ এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সামরিক পাহারায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা অবরোধের চাপের মুখে মিত্র দেশগুলো একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক আইনসম্মত সমাধানের পথ খুঁজছে।