সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হামলার ভিডিও শেয়ার করে এটি ইসরায়েলি পার্লামেন্টে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপর হামলার দৃশ্য বলে দাবি করা হচ্ছে।
এরকম দাবি সম্বলিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। এটি ২০১৩ সালে বুলগেরিয়ার একটি রাজনৈতিক দলের নেতা আহমেদ দোগানের উপর হামলার ভিডিও।
ভিডিওটির কী-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ঘটনাটি সম্পর্কে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি Associated Press-এর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওটির হুবহু মিল পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশন অনুযায়ী, বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় একটি দলীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তুর্কি সংখ্যালঘু দলের এক নেতার দিকে গ্যাস পিস্তল তাক করার পর এক ব্যক্তিকে আটক করছে বুলগেরিয়ার পুলিশ। এসময় কোনো গুলি ছোড়া হয়নি বলেও ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০ জানুয়ারি ২০১৩ সালে প্রকাশিত বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিভিশনে সম্প্রচারকালীন এক সম্মেলনের সময় এক ব্যক্তি বুলগেরিয়ার তুর্কি সংখ্যালঘু দলের নেতার মাথায় একটি গ্যাস পিস্তল তাক করেন। Movement for Rights and Freedoms (MRF) নামক দলটির নেতা আহমেদ দোগান এই ঘটনায় আহত হননি। পিস্তল তাককারী ব্যক্তিকে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।
এছাড়াও ওই ঘটনা নিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে হামলাকারীর নাম অকতাই এনিমেহমেদভ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে বলা হয়, এনিমেহমেদভের হাতে থাকা গ্যাস পিস্তলটিতে পিপার স্প্রে ভরা ছিল এবং অন্য দুটি ‘গুলি’ আসলে কেবল শব্দ তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। তিনি সোফিয়ায় অনুষ্ঠিত দলীয় সম্মেলনে আহমেদ দোগানের মাথার দিকে পিস্তল তাক করেছিলেন, তবে গুলি করতে ব্যর্থ হন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।