Image description

ইরান থেকে কীভাবে শ্বাসরুদ্ধকর এক অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার হয়েছেন দ্বিতীয় মার্কিন পাইলট; তা নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। রোববার (৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে তারা জানায়, ইরানের দুর্গম পাহাড়ে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন তিনি। হাতে ছিল মাত্র একটি পিস্তল। চারপাশে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল ইরানি বাহিনী। ঠিক সেই মুহূর্তেই রাতের অন্ধকারে আকাশ চিরে ধেয়ে আসে মার্কিন কমান্ডোদের একটি বিশেষ দল। শুরু হয় অন্যতম দুর্ধর্ষ ও শ্বাসরুদ্ধকর এক উদ্ধার অভিযান।

গত শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল বিমানটি আক্রান্ত হলে পাইলটের সাথে কর্নেলও ইজেক্ট করেন। প্রথম পাইলটকে ওই দিনই উদ্ধার করা হয়। তবে নিখোঁজ ছিলেন দ্বিতীয়জন। জানা গেছে, তিনি কয়েক হাজার ফুট উঁচু একটি পাহাড়ের শৈলশিরায় উঠে যান এবং প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সেখানে লুকিয়ে থাকেন।

 
 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শত্রু সীমানার গভীরে ৪৮ ঘণ্টা ধরে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা। তার আত্মরক্ষার একমাত্র সম্বল ছিল একটি সাধারণ পিস্তল। ইরানি বাহিনী তার অবস্থানের খুব কাছাকাছি চলে এলেও তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরা দেননি।

 
 

পরে শনিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই অভিযানে কয়েকশ মার্কিন স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্য অংশ নেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এই অভিযানে মোতায়েন করা হয়েছিল ডজনখানেক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান।

 
 

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দল যখন ওই কর্মকর্তার অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন সেখানে ইরানি কনভয়ের সঙ্গে ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন অ্যাটাক এয়ারক্রাফটগুলো আকাশ থেকে ইরানি বাহিনীর ওপর মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণ করে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে। এই প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যেই কমান্ডোরা ওই পাইলটকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে তুলে নিতে সক্ষম হন।

 

এদিকে, উদ্ধার অভিযানের সময় দুটি বিমান আটকে পড়ায় সেগুলো নিজেরাই ধ্বংস করতে বাধ্য হয় মার্কিন বাহিনী।