Image description

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কালীঘাটের বাসভবন থেকে সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের ২৯৪টি আসনেরই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে সোমবার বিজেপি তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। দক্ষিণ কলকাতার ওই কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হন শুভেন্দু অধিকারী। 

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে মমতা পরাজিত হয়েছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। এবার মমতা-শুভেন্দুর হাই ভোল্টেজ লড়াই হবে ভবানীপুরে। 

অন্যদিকে দার্জিলিং এ তিনটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জোটসঙ্গী অনিত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাকে (বিজিপিএম)। প্রার্থী তালিকায় এবারও জোর দেওয়া হয়েছে নারীশক্তি, অনগ্রসর শ্রেণি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং নবীন-প্রবীণের ভারসাম্যের ওপরে। প্রার্থী তালিকায় রয়েছে নামের চমক! সমাজের বিভিন্ন পেশার একঝাঁক তারকা, নতুন মুখ জায়গা পেয়েছে। সেখানে একদিকে যেমন রয়েছে টলিউড অভিনেতা-অভিনেত্রী-চিত্রপরিচালক, তেমনি রয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার, সাবেক সরকারি কর্মকর্তারাও। 

এবার নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পবিত্র করকে, শিলিগুড়ি কেন্দ্রে সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেব, মেখলিগঞ্জে সাবেক মন্ত্রী পরেশ অধিকারী, দিনহাটা কেন্দ্রে মন্ত্রী উদয়ন গুহ, জঙ্গিপুর কেন্দ্রে সাবেক মন্ত্রী জাকির হোসেন, ডোমকল কেন্দ্রে সাবেক আইপিএস হুমায়ুন কবীর, তুফানগঞ্জ কেন্দ্রে সাবেক ক্রিকেটার শিব শংকর পাল, হাবরা কেন্দ্রে সাবেক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ব্যারাকপুর কেন্দ্রে পরিচালক রাজ চক্রবর্তী খরদহ কেন্দ্রে সাংবাদিক দেব-দীপ পুরোহিত, কামারহাটি কেন্দ্রে মদন মিত্র, বরানগর কেন্দ্রে অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জি, দমদম কেন্দ্রে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্রে সংগীত শিল্পী অদিতি মুন্সি, সোনারপুর কেন্দ্রে অভিনেত্রী লাভলী মৈত্র, কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে ফিরহাদ হাকিম, বালিগঞ্জ কেন্দ্রে মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, চৌরঙ্গী কেন্দ্রে অভিনেত্রী নয়না ব্যানার্জি, চন্দননগর কেন্দ্রে সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন, মানিকতলা কেন্দ্রে অভিনেত্রী শ্রেয়া পান্ডে, করিমপুর কেন্দ্রে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী করিমপুর কেন্দ্রে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী প্রমুখ। 

 

আবার এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বেশ কয়েকজন জয়ী বিধায়কদের নামও। এর মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রের গতবারের তৃণমূলের প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বারাসাত কেন্দ্রের বিধায়ক অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী প্রমুখ। 

ভবানীপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারনাও চালাচ্ছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘২৬-এর ভোটে ২২৬ এর বেশি আসন পাব।’ জয়ের বিষয়েও একশত শতাংশ আত্মবিশ্বাসী বলেও জানান তিনি। মমতার ভাষ্য, ‘অনেক ভোটের ব্যবধানে জিতব।’

মমতা বলেন, ‘বিজেপিকে বলবো- এত ভয় পাচ্ছেন কেন?' আপনারা ভদ্র হন, শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। আপনারা এজেন্সি দিয়ে কলকাঠি না নাড়িয়ে, গ্যাসের সংকট না বাড়িয়ে, লড়াইতে আসুন। গণতন্ত্রের ভীত শক্ত করার জন্য রাজনৈতিকভাবে লড়াই হোক।’

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে মমতার সঙ্গে ছিলেন তার ভাতিজা ও দলটির সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় বরাবরই নারেীদের সংখ্যা বেশি থাকে। তৃণমূল এবার ৫২ জন নারী প্রার্থীকে টিকিট দিয়েছে। ২০২১ এ প্রার্থী তালিকায় নারীদের সংখ্যা ছিল ৫০ জন।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে রাজ্যজুড়ে যেভাবে আইপিএস ও আইএএস সহ অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন,‘দাঙ্গা লাগানোর কোন প্রচেষ্টা হচ্ছে নাকি? কেন ঈদের আগে সরকারের অফিসারদের সরানো হলো? আপনারা সুপার ইমার্জেন্সি চালু করে গত চার মাস ধরে সরকার তাকে দখল করে রেখেছেন।’

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮৪টি আসন তফসিলি জাতি-উপজাতির (৬৮টি এসসি, ১৬টি এসটি) জন্য সংরক্ষিত। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাদের দল এবার ৯৫ জন এসসি-এসটি (৭৮ জন এসসি, ১৭ জন এসটি) প্রার্থীকে টিকিট দিয়েছে, যা সংরক্ষিত আসনের চেয়েও বেশি। অনগ্রসর শ্রেণির ভোটব্যাংক অটুট রাখতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

প্রসঙ্গত,  এবারে পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনে জন্য ভোট নেওয়া হবে দুইটি দফায়। প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোট নেওয়া হবে ২৩ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে ভোট ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা করা হবে ৪ মে।