Image description

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে টানা ২০ দিন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এ সময় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসকে অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছিলেন তিনি। অবশেষে ২১তম দিনে আজ সোমবার সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য।

তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের ফটকে ফের তালা লাগিয়ে দেন। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগও। এতে উপাচার্য ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন শেখ শরীফুল।

চুয়েট প্রশাসনিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উপাচার্যের সঙ্গে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীও ভেতরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

চুয়েটের শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাগাতার কর্মবিরতির মধ্যেই আজ সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে যান উপাচার্য শেখ শরীফুল। প্রশাসনিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানালেন, সকাল পৌনে ৯টার দিকে চুয়েটের মূল ফটকে একটি কালো রঙের হাইয়েস মাইক্রোবাস আসে। উপাচার্য নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। গাড়িতে ছিলেন চুয়েট ছাত্রসংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) রিয়াসাত আজিম সুমনের নেতৃত্বে অন্তত আটজন।

সাবেক ছাত্রদল নেতা রিয়াসাত আজিম সুমন উপাচার্যের সঙ্গে ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ‘আমরা ভিসি স্যারের সঙ্গে এসেছি। এখন যা বলার ভিসি স্যারই বলবেন। এখানে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’

এদিকে প্রশাসনিক বিভাগের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর ছাত্রদলের নেতারা উপাচার্য শেখ শরীফুলকে স্বাগত জানিয়ে উপাচার্য ভবনে নিয়ে যান। সেখানে তালা ভেঙে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে যান উপাচার্য। এ সময় চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। পরে উপাচার্যের কার্যালয়ে তাদের অবস্থানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

উপাচার্যের আকস্মিক ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। সকাল ১০টার পর তারা উপাচার্য ভবনের নিচে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ভবন ছেড়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে আবার তালা লাগিয়ে দেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আফিফ কবির বললেন, ‘নতুন উপাচার্য কাউকে না জানিয়ে তালা ভেঙে প্রবেশ করেছেন। তার এ আচরণ আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’

চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য চুয়েটের মূল ফটকের বাইরে অবস্থান করছেন। উপাচার্য ভেতরে থাকা অবস্থায় আন্দোলনকারীরা তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও উত্তেজনা আছে।

নিয়োগের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার স্থলে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

এ নিয়োগের প্রতিবাদ এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন।