ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহকারী রেজিস্ট্রার ও সমমানের পদ থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বা সমমানের পদে সিন্ডিকেট কর্তৃক গৃহীত ১৮৭ জনের পদোন্নতি, চাকরির বয়স বৃদ্ধি ছয় দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে তারা লিখিত এসব দাবি জানিয়েছেন। দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের চার সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘কর্মচারী ঐক্যপরিষদ’ এ কর্মসূচি পালন করছে। তাদের ছয় দাবি হলো-
১. সহকারী রেজিস্ট্রার বা সমমানের পদ থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বা সমমানের পদে সিন্ডিকেট কর্তৃক গৃহীত ১৮৭ জনের পদোন্নতি ১৫ মের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
২. অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, ৩য় শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি ও ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের ২০২৫ সালের পদোন্নতির দরখাস্ত অনতিবিলম্বে আহবান করতে হবে।
৩. সর্বস্তরের কর্মচারীদের চাকরির বয়স ৬২ বছর করতে হবে।
৪. বর্তমান পদোন্নতির নীতিমালায় আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত সুবিধা অক্ষুন্ন রেখে আরো সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর প্রণীত নীতিমালা স্ব স্ব সংগঠনের নেতাদের সাথে আলোচনা করে সংযোজন এবং বিয়োজন করতে হবে। সংগঠনের নেতাদের অনুপস্থিতিতে কোন কালো নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা কর্মচারী গ্রহণ করবেন না।
৫. বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিন দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করতে হবে।
৬. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, দাবি বাস্তবায়নের জন্য রেজিস্ট্রার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ৩ মে পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হয়ে দাবি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে। এ বিষয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টরকেও স্মারকলিপি দেবেন তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১৮৭ জন আবেদন করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে ‘ওয়ান-থার্ড’ (এক-তৃতীয়াংশ) পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি তুলেছে, যারা আবেদন করেছেন তাদের ১৮৭ জনকেই পদোন্নতি দিতে হবে। তারা বলছেন, অতীতে তারা বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন উপাচার্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি করেন। কমিটি সুপারিশ করে বিষয়টি সিন্ডিকেটে পাঠানোর জন্য। সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত হয়, প্রমোশন কমিটির মাধ্যমে ভাইভা বোর্ড ফেস করে পদোন্নতি হবে। সে অনুযায়ী তৎকালীন উপাচার্য ১৬ ফেব্রুয়ারি ভাইভা বোর্ডের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু ১০ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট মিটিং শেষে উপাচার্য হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং নিয়োগ ও পদোন্নতি বোর্ড স্থগিত করে দেন।
মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন আবার আবেদন করেছে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে। পুরো বিষয়টি বিস্তারিত নোট আকারে দিয়েছি। এখন উপাচার্য যখন তারিখ দেবেন, তখনই ভাইভা বোর্ড হবে। এখানে রেজিস্ট্রারের অসহযোগিতার কোনো সুযোগ নেই।