‘মিথ্যা সাময়িক, কিন্তু সত্য চিরস্থায়ী’- এই একটি লাইনই নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন অভিনেত্রী শাবনূর। এই লাইনই বলে দিচ্ছে আলোচিত এই অভিনেত্রীর অনেক না বলা কথা। সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে যখন অনেকেই শাবনূরের সম্পৃক্ততা খুঁজছেন কিংবা শাবনূরকে দোষী আখ্যা দিয়ে বিচার চাইছেন, তখন অভিনেত্রী অস্ট্রেলিয়া থেকে এমনই এক বার্তা দিলেন।
এদিকে চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। গত সপ্তাহে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত খল অভিনেতা ডন হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হলে আদালত জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন।
আদালতের শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী সাংবাদিকদের কাছে অভিনেতা ডনের পূর্বে প্রদত্ত জবানবন্দির বিস্তারিত তুলে ধরেন। জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার দিন সালমান শাহর বাসায় আজিজ মোহাম্মদ ভাই এবং সামিরাসহ অন্য আসামিরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
ওমর ফারুক বলছেন, আসামিরা প্রথমে নাকে-মুখে ক্লোরোফর্ম দিয়ে সালমান শাহকে অচেতন করেন। এরপর অচেতনের মাত্রা আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে তাঁকে বিশেষ ইনজেকশন দেওয়া হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে তার মরদেহ সিলিং ফ্যানের সাথে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। জবানবন্দিতে ডন স্বীকার করেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই দড়িটি তিনি নিজেই নিজের কোমরে বেঁধে ওই বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এদিকে, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি উঠছে সব মহল থেকেই। সালমান শাহর ভক্তরা জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিক্ষোভ করে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে শাবনূর এ বিষয়ে একেবারে চুপ থাকলেও মঙ্গলবার নিজের নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে লিখলেন, ‘মিথ্যা সাময়িক, কিন্তু সত্য চিরস্থায়ী।’
অন্যদিকে, এই হত্যা মামলার সঙ্গে শাবনূরের সম্পৃক্ততাও খুঁজছেন অনেকে। অনেকেই শাবনূরকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছেন। কিন্তু এই দাবির সঙ্গে আবার সালমানের মা নীলা চৌধুরীর ভিন্নমত রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সালমান ও শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে নানান প্রেম ও বিতর্কের গুঞ্জন চলে আসছিল। তবে শাবনূর বরাবরের মতোই দাবি করে এসেছিলেন যে তাঁদের সম্পর্ক ছিল ভাই-বোনের মতো। সম্প্রতি নীলা চৌধুরীও শাবনূরের সেই দাবিকে সমর্থন করে জানান, তাঁর ছেলের সঙ্গে শাবনূরের কখনোই প্রেমের সম্পর্ক ছিল না; বরং শাবনূরকে নিজের বোনের মতোই দেখতেন সালমান।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী। এরপর ‘তুমি আমার’ সিনেমায় শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সালমান শাহ। সেই সিনেমার পর বাংলা চলচ্চিত্রে তুমুল জনপ্রিয়তা পায় সালমান–শাবনূর জুটি। মাত্র চার বছরের অভিনয়জীবনে সালমান অভিনয় করেন ২৭টি সিনেমায়, এর মধ্যে ১৪টিতে তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর।
‘তুমি আমার’ দিয়ে সালমান–শাবনূর জুটির শুরু। পরে একে একে অভিনয় করেন ‘সুজন সখী’, ‘বিচার হবে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’সহ ১৪টি সিনেমায়। তাদের জুটির অধিকাংশ সিনেমাই পায় ব্যবসায়িক সাফল্য।