আর কয়েক দিন পরই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। এসময়ে অন্য অনেক পণ্যের মতো চাহিদা বেড়ে যায় লেবুরও। রোজা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় চারগুণ বেড়েছে লেবুর দাম। রমজানের শুরুতে তা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর বাজারগুলোতে কিংবা বাসাবাড়ির অলিগলির ভ্যানে এখন ছোট এক হালি লেবুর দাম ৬০-৭০ টাকা। আর মাঝারি ও বড় সাইজের লেবুর হালি ১০০ টাকা।
ঢাকার কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঠিক দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর বাজারে লেবুর হালি ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা, যা গত শুক্রবার বেড়ে ৫০-৬০ টাকা হয়ে যায়। এখন সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে লেবুর হালি।
আবার কোথাও কোথাও এক হালি বড় সাইজের লেবু ১২০ টাকা পর্যন্ত চাইছেন বিক্রেতারা, যা দরদাম করে ক্রেতারা ১০০ টাকায় কিনতে পারছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে একজন ক্রেতার কাছে প্রতি পিস লেবু ৩০ টাকা চাইছিলেন বিক্রেতা। পরে দরদাম করে ওই ক্রেতা ৫০ টাকায় দুটি লেবু কেনেন।
বিক্রেতা বলছেন, তারা পাইকারি বাজারে লেবু পাচ্ছেন না। তাই বেশি দামে কিনে, বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
সেগুনবাগিচায় পাঁচটি সবজির দোকানের মধ্যে চারটিতেই প্রতি হালি লেবু ১০০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। একটি দোকানে বিক্রি হয় ৮০ টাকায়। তবে ওই লেবুগুলো কিছুটা পাকা। এ কারণে দামও কিছুটা কম।
হাজিপাড়া বউবাজারে একটি ভ্যানে আকারে কিছুটা ছোট লেবু ৬০ টাকা হালি বিক্রি হতে দেখা গেছে। রোববার সন্ধ্যায় কোনো বাজারে এরচেয়ে কম দামে লেবু বিক্রি হতে দেখা যায়নি।
বিক্রেতাদের দাবি, গত দুই সপ্তাহ আগ থেকেই বাজারে লেবুর দাম চড়া। রমজানে বাড়তি চাহিদার প্রভাব পড়েছে এ পণ্যে।
এদিকে দাম আকাশছোঁয়া হলেও বাজারে লেবুর কোনো সরবরাহ সংকট দেখা যায়নি। বেশিরভাগ দোকানেই কয়েক ধরনের লেবু পাওয়া যাচ্ছে।
একজন সবজি বিক্রেতা বলেন, বেশিরভাগ চাষিই রমজানে ভালো দাম পাওয়ার আশায় বাজারে এখনো লেবু ছাড়ছেন না। রমজানে লেবুর দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে পাইকারি বিক্রেতারাও এখন লেবু সংরক্ষণ করতে পারেন। কারণ, এই পণ্যটি অনায়াসে বেশ কিছুদিন সংরক্ষণ করা যায়।
শীর্ষনিউজ