ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন অন্তত সাত নেতা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) গ্যাঁড়াকলে পড়ে তাঁরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। এখন এসব নেতার বেশির ভাগ বিএনপি ছাড়তে চান না। তারা দলটিতে পদপদবির জন্য লবিং করছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা নিজ নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। একই পথে হাঁটেন জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।
এর বাইরে গণফোরাম ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক শীর্ষ নেতা ড. রেজা কিবরিয়া বিএনপিতে যোগ দেন। তারা সবাই গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেন। এর মধ্যে ববি হাজ্জাজ, রেজা কিবরিয়া ও শাহাদাত হোসেন সেলিম বিজয়ী হয়েছেন। ববি হাজ্জাজকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলেও, এখন তারা নিজ দলে ফিরতে চান না। বিএনপিতেই সক্রিয় থেকে দলের পদপদবি পেতে আগ্রহী। এজন্য তারা বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তদবিরও করছেন।
বিএনপির পদপ্রত্যাশীর তালিকায় আছেন শাহাদাত হোসেন সেলিম, সৈয়দ এহসানুল হুদা, রাশেদ খান, রেদোয়ান আহমেদ ও ড. রেজা কিবরিয়া। অন্যদিকে, ববি হাজ্জাজ সক্রিয় হয়েছেন নিজের এনডিএম এবং ফরিদুজ্জামান ফরহাদ তাঁর এনপিপির কার্যক্রমে।
বিএনপির পদপ্রত্যাশী নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপিতে যোগ দিয়েই তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সব জেনেবুঝেই নিজের দল বিলুপ্ত করেছেন। ফলে সেখানে আর যাওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপির হয়েই দেশ ও জাতির কল্যাণে রাজনীতি করতে চান। বিএনপি পদপদবির সুযোগ তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
এ বিষয়ে রেজা কিবরিয়াকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ হয়নি। গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের আদর্শিক মিল অনেক। নুরুল হক নুর বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। আমি বিএনপিতে যোগদান করে নির্বাচন করেছি। এখানে থেকেই রাজনীতি করতে চাই।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইতিবাচক রাজনীতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাঁর নেতৃত্বে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আমি কাজ করতে চাই।
শাহাদাত হোসেন সেলিম ছাত্রদল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। এরপর এলডিপি, বাংলাদেশ এলডিপি হয়ে নির্বাচনের আগে আবার বিএনপিতে ফেরেন। শাহাদাত সেলিম বলেন, দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে এসেছি। এখানে থেকেই রাজনীতি করতে চাই। বাকি জীবন বিএনপির সঙ্গেই যুক্ত থাকব।
শাহদাত সেলিমের মতো এক সময় বিএনপি করতেন রেদোয়ান আহমেদ। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন। ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে বেরিয়ে এলডিপিতে যোগ দেন। বর্তমানে এই নেতা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন।
সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেছেন, নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। বিএনপি থেকেই নির্বাচন করেছি, এখনো বিএনপিতে রয়েছি। আমি আর দল বদল করব না। শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাই। ফলে দলীয় পদপদবি প্রত্যাশা করা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
অবশ্য ববি হাজ্জাজ ও ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলছেন, তারা কৌশলগত কারণে জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন। এখন নিজ নিজ দল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছি। কৌশলের অংশ হিসেবে ধানের শীষে প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচন শেষ, এখন আমি আমার দল এনডিএমের কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছি।’
ফরিদুজ্জামান বলেন, নির্বাচন শেষে এনপিপিকে গুছিয়ে নিচ্ছি। নেতাকর্মীরা দারুণ সাড়া দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এসব নেতাদের বিষয়ে এখনো দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। যারা বিএনপির সঙ্গে থাকতে চান, তাদের বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নেবেন। আপাতত আমাদের মনযোগ সরকার পরিচালনায়। বিষয়টি নিয়ে আগামীতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক আলোচনা হতে পারে।