পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ও সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলীতে এখনও জমেনি বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ট্রাক বোঝাই করে গরু, মহিষ ও ছাগল নিয়ে ব্যাপারীরা হাটে এলেও ক্রেতার দেখা মিলছে না বললেই চলে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা না পেয়ে লোকসানের চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিক্রেতা ও খামারিরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরেজমিনে গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সারি করে বেঁধে রাখা হয়েছে বড়, মাঝারি ও ছোট আকারের গরু। তবে সেই তুলনায় ক্রেতাদের সমাগম একেবারেই কম। দুই-একজন ক্রেতা হাটে এলেও তারা মূলত বাজারের দরদাম যাচাই করতেই ব্যস্ত। পশু পছন্দ হলেও বিক্রেতাদের হাঁকানো দামের সঙ্গে ক্রেতাদের বাজেটের বিশাল অমিল দেখা যাচ্ছে। ফলে অধিকাংশ ক্রেতাই গরু না কিনে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
খুলনার মেহেরপুর থেকে খালেক ব্যাপারী ১৮টা গুরু এনেছেন, আরও আনবেন কি না চিন্তা করছেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে একটা ক্রেতাও আসেনি যারা আসছে তারা দেখে চলে যাচ্ছে। জানি না এবার কেমন বেচাকেনা হবে। তবে তিনি আশা করেন আগামীকাল শুক্রবার (২২ মে) থেকে কিছু গরু বিক্রি করতে পারবেন।
ফরিদপুরের গরু ব্যাপারী আবু বকর পাবনা থেকে গরু কিনেছেন। গাবতলীর হাটে গরু নিয়ে এসেছেন আজ দুই দিন। তিনি বলেন, কাস্টমার নাই, কীসের জন্য নাই আল্লাহ ভালো জানেন। অন্য বছর তো এই সময় অনেক গরু বিক্রি করেছি, এই বছর বেচাকেনা এখনও শুরু হয়নি। সকাল থেকে একটাও বিক্রি করতে পারিনি।
ছাগল ব্যাপারী মো. আরিফ দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি ছাগলের ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, অন্য বছর একই সময় অনেক বিক্রি হয়েছে, কিন্তু এই বছর জানি না এখনও বিক্রি কেনো হচ্ছে না। আজ সকাল থেকে ছাগল নিয়ে বসে আছি কিন্তু বিক্রি হয়নি। তিনি আরও বলেন, মনে হয় এবার ঈদের দুই তিন দিন আগে থেকে বিক্রি হবে। কারণ ঢাকার মানুষের গরু-ছাগল রাখতে সমস্যা হয়, তাই কিনছে না এখন।
ছেলেকে নিয়ে গাবতলী হাটে গরু দেখতে এসেছেন মো. সালাম নামের এক ক্রেতা। তিনি বলেন, দুইটি অস্ট্রেলিয়ান গরু পছন্দ হয়েছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি। আর এখন কিনলে রাখাটা সমস্যা তাই আরও পরে কিনব।
মিরপুর থেকে হাটে আসা ক্রেতা জিল্লুর রহমান জানান, মাঝারি আকারের একটি গরুর দাম বিক্রেতারা চাচ্ছেন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যা গত বছরের তুলনায় অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেশি। আমাদের বাজেট ১ লাখ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। তাই দাম না মেলায় এখনও কিনতে পারিনি।
হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকার মানুষ সাধারণত ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে (১ বা ২ দিন আগে) পশু কিনতে পছন্দ করেন, কারণ শহরে পশু রাখার বাড়তি জায়গা বা রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা থাকে। তবে গোখাদ্যের বাড়তি দামের কারণে এবার ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে দরদামের একটা বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
হতাশার মাঝেও ব্যাপারীরা আশা করছেন, শুক্রবার (২২ মে) ছুটির দিন থেকে শুরু করে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত হাটে ক্রেতাদের ভিড় বাড়বে এবং শেষ মুহূর্তে তারা পশুর ন্যায্য মূল্য পেয়ে লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।