Image description

দেশে বিদ্যুতের দাম খুচরা পর্যায়ে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তীব্র উদ্বেগ ও বিরোধিতা দেখা দিয়েছে গণশুনানিতে। ভোক্তা প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, শিল্প উদ্যোক্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তা সরাসরি মূল্যস্ফীতি বাড়াবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরো দুর্বিষহ করে তুলবে।

একই সঙ্গে শিল্প খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী ছয়টি প্রতিষ্ঠানের খুচরা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। শুনানিতে খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর আগের দিন শুনানিতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা, সিস্টেম লস, দুর্নীতি ও ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মোশাহিদা সুলতানা প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রতিবছর ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হলেও এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো স্বাধীন আর্থিক নিরীক্ষা করা হচ্ছে না। তিনি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিবর্তে ‘দাম কমানোর রূপরেখা’ নিয়ে আলাদা গণশুনানির দাবি জানান।

সিনিয়র সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া বলেন, সাধারণ মানুষের কষ্ট কমানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ খাতকে ‘লাভের খাত’ না বানিয়ে সেবামুখী খাতে রূপান্তরের দাবি জানান।

গণশুনানির এক পর্যায়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ স্বীকার করেন, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ এখন বড় বোঝায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে ভর্তুকির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। এটি জাতির জন্য ক্ষতির কারণ। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোর ফিন্যানশিয়াল অডিটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ‘নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতেই এই মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে কম্পানিগুলো অনেক টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে এসেছে, যেগুলো আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী গ্রাহকদের বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিলে কী পরিমাণ দাম বাড়িয়ে তা সমন্বয় করতে হবে, এমন একটি বিশ্লেষণ দরকার। সে জন্য বিইআরসি আইনের পরিবর্তন দরকার। বিদ্যুৎ জনগণের অধিকার, তাই এটিকে বাণিজ্যিক খাতে বিবেচনা না করে সেবা খাত হিসাবে বিবেচনা করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক জেবুন্নেসা বলেন, বিতরণ কম্পানিগুলোর সিস্টেম লস বন্ধ করা বিইআরসির কাজ নয়। অবৈধ সংযোগের কারণে যে লোকসান হয় সেটা সংশ্লিষ্ট বিতরণ কম্পানিকেই বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ না হলে দাম বাড়ানো আর বন্ধ হবে না।

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের মতো একটি ভর্তুকিনির্ভর খাতে বিভিন্ন রকম ট্যাক্স রয়েছে। এই শুল্ক কমিয়েও খরচ অনেক কমানো যায়। দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থা এত উন্নত হয়ে যায়নি যে লাইফলাইন স্ল্যাব তুলে নিতে হবে। পল্লী বিদ্যুতের লাভজনক সমিতিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে লোকসানি সমিতিগুলো চলে। সেখানে লাভজনক সমিতি আলাদা করাটা দুরভিসন্ধিমূলক। এসব কিছু বিবেচনায় এই প্রস্তাব বাদ দিয়ে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিইআরসির কাছে সাত দফা দাবি দিয়েছে। সংগঠনটি স্টিল শিল্পে বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত রাখা, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট কমানো, পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জ পুনর্বিবেচনা, ক্যাপাসিটি চার্জ প্রত্যাহার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ভারী শিল্পের জন্য বিশেষ ট্যারিফ চালু এবং সিকিউরিটি মানির বিপরীতে সুদ বা বিল সমন্বয়ের সুবিধা চেয়েছে। বিএসএমএ বলেছে, বিদ্যুতের ব্যয় বাড়লে শিল্প খাত, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ভোক্তার স্বার্থ নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ক্যাবের মতে, বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা, সিস্টেম লস, অতিরিক্ত ব্যয় ও ক্যাপাসিটি চার্জের দায় সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়। একই সঙ্গে তারা বিদ্যুৎ খাতে সুশাসন, জবাবদিহি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ভোক্তাবান্ধব মূল্যনীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যত টালবাহানা : বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ বিতরণকারী ছয়টি সরকারি সংস্থা ও কম্পানির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এই সংস্থাগুলো তাদের লোকসান ও পরিচালন ব্যয় সমন্বয়ের কারণ দেখিয়ে বিইআরসির কাছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। গতকাল অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে শুধু দাম বাড়ানোর প্রস্তাবই আসেনি, বরং গ্রাহক শ্রেণি পুনর্নির্ধারণ, প্রি-পেইড মিটারে নতুন ধরনের চার্জ আরোপ, বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক ট্যারিফের আওতায় আনা এবং শিল্প গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টির মতো একাধিক প্রস্তাব সামনে এসেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা উত্তর বিদ্যুৎ সরবরাহ কম্পানি (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপাডিকো) ও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কম্পানি (নেসকো)এই ছয়টি প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিপিডিবির প্রতি ইউনিটে ২৯ পয়সা ঘাটতি : গণশুনানিতে বিপিডিবি জানিয়েছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ট্যারিফ বজায় থাকলে তাদের প্রতি ইউনিটে সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াবে ২৯ পয়সা। এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি সমন্বয় করার অজুহাতে তারা খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি একটি নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে ৮০ কিলোওয়াট পর্যন্ত নিম্নচাপ (এলটি) গ্রাহকসীমা রয়েছে, যা কমিয়ে ৫০ কিলোওয়াট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ, ৫০ কিলোওয়াটের বেশি লোড ব্যবহারকারী গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে মধ্যচাপ (এমটি) গ্রাহক শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে তাদের আয় বাড়বে।

বাড়তি দেড় টাকা চায় আরইবি : পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গড়ে ৫.৯৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় বিক্রয়মূল্য আট টাকা ৫০ পয়সা হলেও লোকসান এড়াতে তাদের প্রতি ইউনিট কমপক্ষে ৯ টাকা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তারা দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত লাইফলাইন সুবিধা আরো সংকুচিত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

ডিপিডিসির নতুন চার্জের প্রস্তাব : রাজধানীর একাংশে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ডিপিডিসি গড়ে ৬.৯৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করেছে। তাদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বর্তমান পরিচালন ব্যয়ের কারণে তাদের বিপুল রাজস্ব ঘাটতি থেকে যাবে। ঘাটতি পূরণে ডিপিডিসি কিছু নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব করেছে।

ঘাটতি পোষাতে চায় ডেসকো : ঢাকা শহরের উত্তরাঞ্চল ও মিরপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ডেসকো জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিগত তিন বছরে তাদের মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬১১ কোটি টাকা। এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি ও ঘাটতি মোকাবেলা করতে সংস্থাটি গড়ে ৯.৬৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব পেশ করেছে।

ওজোপাডিকোর ঘাটতি প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা : দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ওজোপাডিকো জানিয়েছে, বিগত দিনগুলোতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, সে তুলনায় খুচরা পর্যায়ের ট্যারিফ সমন্বয় করা হয়নি। এর ফলে বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিতরণে তাদের ৮৫ পয়সারও বেশি ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংস্থাটি আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য ৮ শতাংশ এবং অন্য সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ১২.২৫ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে ইজি বাইক চার্জিং স্টেশনগুলোকে বাণিজ্যিক ট্যারিফের আওতায় এনে রাজস্ব বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা।

নেসকোর বিতরণ ব্যয় বেড়েছে : উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণকারী কম্পানি নেসকো জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ক্রয় এবং তা গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার বিতরণ ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাদের নিজস্ব বিতরণ ব্যয় প্রতি ইউনিটে এক টাকা ৬৬ পয়সায় গিয়ে পৌঁছাবে।

বিইআরসির কারিগরি কমিটির আপত্তি : বিতরণ সংস্থাগুলোর এসব ঢালাও প্রস্তাবের বিপরীতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বেশ কিছু বিষয়ে কড়া আপত্তি ও সতর্কতা ব্যক্ত করেছে। কমিটি স্পষ্ট জানিয়েছে, নিম্নচাপ বা এলটি গ্রাহকের লোডসীমা ৮০ কিলোওয়াট থেকে কমিয়ে হুট করে ৫০ কিলোওয়াটে নামানো ঠিক হবে না। এটি করার আগে একটি স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘রেগুলেটরি ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা এর প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি। একইভাবে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঢালাওভাবে বাণিজ্যিক গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করা সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে যথাযথ নয় বলে মত দিয়েছে কারিগরি কমিটি। যেসব গ্রাহকের নন-ডিমান্ড মিটার রয়েছে, তাঁদের বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত লোড নির্ধারণ করা অন্যায়। এর পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে সব জায়গায় ডিমান্ড মিটার স্থাপন করা উচিত বলেও কারিগরি কমিটি জানিয়েছে।