ব্যাংক আলফালাহ পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। দেশটির ২০০টিরও বেশি শহরে ব্যাংকটির এক হাজারের বেশি শাখা রয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও তাদের শাখা রয়েছে।
তবে চলতি বছরের শুরুতে ব্যাংক আলফালাহ আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়। এবার বাংলাদেশ থেকেও কার্যক্রম প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে।
ব্যাংক আলফালাহ বাংলাদেশ অংশের কার্যক্রম বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডারদের এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে ঢাকার ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড। তারা চার কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার তথা ৫৮০ কোটি টাকায় কিনে নিতে যাচ্ছে।
ব্যাংক এশিয়ার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ব্যাংক আলফালাহর বাংলাদেশ কার্যক্রমের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক মাস আগে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পাকিস্তানের পুঁজিবাজারে বিক্রির অনুমোদনের খবর পাওয়া গেছে এবং শিগগির আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণ সম্পন্ন হতে পারে। এরপর ব্যাংক আলফালাহর সম্পদ ও কার্যক্রম বুঝে নেবে ব্যাংক এশিয়া।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক আলফালাহ তাদের ৭৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। সভার কার্যবিবরণী গত শুক্রবার পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া হয়েছে।
শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদিত প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশে ব্যাংক আলফালাহর কার্যক্রম ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের কাছে হস্তান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এজন্য ব্যাংকটি ভিত্তিমূল্য হিসেবে প্রায় ৫৮০ কোটি টাকা পাবে, যা বর্তমান বাজারদরে প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।
তবে বিক্রয়মূল্য চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী কিছু সমন্বয় হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা-স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
১৯৯৯ সালে কার্যক্রম শুরু করা ব্যাংক এশিয়া পরবর্তীসময়ে বিদেশি কয়েকটি ব্যাংকের বাংলাদেশি কার্যক্রম অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক অব নোভা স্কটিয়ার বাংলাদেশ কার্যক্রম এবং মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংকের স্থানীয় কার্যক্রম।