Image description

সংসদের সংরক্ষিত আসনে প্রায় ডজন খানেক আসন পেতে যাচ্ছে জামায়াত। এরইমধ্যে দলের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত আসনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নেতারা। যোগ্যতার বিচারে যারা সংসদে যাবেন তারা নারী অধিকার এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সোচ্চার থাকবেন বলে আশা দলগুলোর নীতিনির্ধারকদের।

সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশব্যাপী ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে এক নতুন রাজনৈতিক উত্থানের জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জোটবদ্ধ নির্বাচনে ২২৩ আসনে নিজেদের প্রার্থী দিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছে ৬৮ আসনে। সেই অনুযায়ী সংসদের সংরক্ষিত আসনে প্রায় ডজন খানেক সদস্য পেতে যাচ্ছে দলটি।

 
সরাসরি নির্বাচনে জামায়াতের কোনো নারী প্রার্থী না থাকলেও এবার সংরক্ষিত আসনে নারী সাংসদ দেয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে দলটির ভেতরে। এরইমধ্যে প্রায় ২০ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা দলটির মহিলা বিভাগ থেকে জমা দেয়া হয়েছে জামায়াত আমিরের দফতরে। জামায়াতের নারী সাংসদ বাছাইয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে ৪টি গুণের ভিত্তিতে। সেগুলো হলো: সাংগঠনিক সক্ষমতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা। শিগগিরই দলের মজলিসে শূরার সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশনে চূড়ান্ত তালিকা প্রেরণ করা হবে বলেও জানা গেছে।
 
দলটির মহিলা বিভাগের ১৫টি আঞ্চলিক শাখা থেকে পাঠানো মূল্যায়ন এবং তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে সংরক্ষিত আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্যদের তালিকা করা হয়েছে বলে জানান দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।
 
 
জামায়াতের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ সময় সংবাদকে বলেন, 

 

জামায়াত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সব কিছু করে। দলের মধ্যে আলোচনা-পরামর্শ করে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করি। অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচনেও এটা আমরা অনুসরণ করি। রুট লেভেল পর্যন্ত আমরা মতামত নিই। আর জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যেখানে আমাদের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন আসে, সেই জায়গায়ও আমাদের দলের বিভিন্ন পর্যায়ে পরামর্শ করি। সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য এরইমধ্যে আমাদের মহিলা বিভাগ তাদের মতামত-পরামর্শ জানিয়েছে। এ বিষয়গুলো আমরা আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে নির্বাচন কমিশন যে তফসিল দেবে, সেই অনুযায়ী সংসদে প্রতিধিত্ব করার জন্য আমরা নিয়মমাফিক তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেব।  

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাড. সাবিকুন্নাহার মুন্নী বলেন, ‘সাংগঠনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংরক্ষিত আসনের ব্যাপারে আমাদের চিন্তা আছে। বিগত যে কয়টা সংসদ নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করেছি, সেখানে আমাদের নারীর প্রতিনিধিত্ব ছিল। আমাদের মহিলা বিভাগের সবাই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করি। সেখানে আমাদের পরামর্শ-প্রস্তাবনা এসেছে। সেই প্রস্তাবনা দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পাস হলে আমির চূড়ান্ত করবেন। আমরা এখানে সারা দেশেরই একটা অংশগ্রহণ চাচ্ছি। যেন গড়ে সব জায়গা থেকেই আমাদের অংশগ্রহণ আসে, সেটা বিবেচনা রেখে কাজ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন অঞ্চলে আমাদের দলের যারা দায়িত্ব পালন করেছে, তাদের মধ্য থেকে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা বিবেচনায় রেখে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।’
 
এদিকে, জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচন করে সংসদে ৬টি আসন পেয়েছে এনসিপি। দলটির নেতারা জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে পাঠাবেন তাদের প্রতিনিধি।
 
 
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, 

 

আমাদের নারী নেতৃবৃন্দ থেকে মতামত নেব যে, সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে কারা পারবেন বলে তারা মনে করেন। এর বাইরেও আমরা মূল্যায়ন করবো যে, বিগত সময়ে কাদের রাজনীতির ব্যাকগ্রাউন্ড বাংলাদেশের প্রতি পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট, দলের প্রতি তারা কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করে কাজ করেছেন। এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে এনসিপির আদর্শকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে, এমন কাউকেই আমরা নির্বাচিত করবো। এক্ষেত্রে অনেকগুলো নামই আমাদের কাছে আছে। আমাদের অনক ডেডিকেটেড নারী নেতৃত্ব আছে। তাই তাদের মধ্য থেকে বাছাই করা মাঝেমধ্যে আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। তবে আমরা অবশ্যই তৃণমূলের নারীদের অগ্রাধিকার, একইসঙ্গে সংগঠন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান-- এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।  

 

জামায়াত ও এনসিপি নেতারা জানান, সংরক্ষিত আসনে সংসদে যাবেন যারা, তারা প্রত্যেকে নারীর অধিকার এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সংসদে থাকবেন সোচ্চার ভূমিকায়।
 
সংসদের ৩০০ আসনে ভোটে জয়ী প্রতিনিধিত্বের আলোকে সংরক্ষিত ৫০ আসন বণ্টন করা হয় দলগুলোর মধ্যে।