শেষ হওয়া সংসদ নির্বাচনে কিছু কিছু আসনে সিলেটের মহিলা প্রার্থীরা মনোনয়ন দৌড়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। ভোটের মাঠে লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিলেন। এজন্য নির্বাচনের শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন তারা। কেউ পেয়েছেন মনোনয়ন। কেউ পাননি। যারা পাননি তারা এখন সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপি হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
আলোচনা আছে সিলেট বিভাগে দু’জন হতে পারেন মহিলা এমপি। ফলে চার জেলা থেকেই মহিলা নেত্রীরা লবিং শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত ১০ জন প্রার্থীর নাম শোনা গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর কন্যা ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী, মহিলা দল নেত্রী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র এডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজ, সিলেট-৬ আসনের সাবেক এমপি মরহুম ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের (লেচু মিয়া) কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের কন্যা সাবিনা খান পপি, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সামিয়া বেগম চৌধুরী, গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা ইফতেখার হোসেন দিনারের বোন সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্না, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেবুন নাহার সেলিম, সুনামগঞ্জের সাবেক এমপি নজির হোসেনের স্ত্রী সালমা নজির। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেত্রী ও সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার। এবারো তিনি এমপি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
বিগত ১৭ বছর বিএনপি’র আন্দোলন সংগ্রামে তার ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাঠের কর্মীরা। তবে শেষ দিকে এসে তিনি অসুস্থতায় কাবু হয়ে পড়েছিলেন। ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী। প্রয়াত নেতা হারিছ চৌধুরীর মেয়ে। পিতার মৃত্যুর ঘটনা তার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি আলোচিত ঘটনা। পিতার মৃত্যুর কঠিন সময়ে তাকে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে তিনি মাঠে রয়েছেন।
সিলেট-৫ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেতেও তিনি আলোচনায় ছিলেন। এবার সংরক্ষিত মহিলা আসনে তাকে এমপি চায় এলাকায় মানুষ। ইতিমধ্যে এলাকা থেকে এ ব্যাপারে দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের বিএনপি’র নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সিলেট-৫ আসনে এবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বিরোধী জোটের। ফলে উন্নয়নের জন্য ব্যারিস্টারকে সামিরাকে এমপি চাইছেন তারা। সিলেট-৬ আসনে এবার সাধারণ আসনের নির্বাচনে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন সাবেক দুই নেতার দুই মেয়ে। এরা হচ্ছেন- সাবেক এমপি মরহুম ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের (লেচু মিয়া) কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের কন্যা সাবিনা খান পপি। সৈয়দা আদিবা হোসেন ভোটের মাঠে যে কয়েকটি শোডাউন দিয়েছিলেন তাতে নজর কাড়ে জনগনের। পিতার ব্যবসা বাণিজ্য দেখা শোনা করছেন আদিবা। একইসঙ্গে করছেন রাজনীতিও। আর কমরউদ্দিন কন্যা পিতার মতোই রাজনীতি করছেন।
এবারের নির্বাচনে তিনিও সিলেট-৬ আসন থেকে প্রার্থী হতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন। এডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজ সিলেট সিটি করপোরেশনের দীর্ঘদিনের প্যানেল মেয়র। তার স্বামীও সিলেট জেলা বিএনপি’র পরিচিত নেতা ও আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এটিএম ফয়েজ। দুর্দিনে সিলেটে মহিলা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এডভোকটে শাহনাজ। করোনার সময় পরিবারের ওপর বিপর্যয় গেছে। গেলো সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ ও সিলেট-৩ আসনে প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে মহিলা ভোটার টানতে তাকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকতে হয়েছে। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সামিয়া বেগম চৌধুরী সজ্জন রাজনীতিক। দুর্দিনেও সিলেটে দলকে শক্ত হাতে পরিচালনা করেছেন। সিনিয়র নেত্রী হিসেবে তিনি এবার এমপি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী হচ্ছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য। আইন অঙ্গনে পরিচিত এ নেত্রীও এমপি হতে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন। নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার হোসেন দিনারের পরিবার একটি নির্যাতিত পরিবার। আওয়ামী লীগের চোখ রাঙানির মুখে তাদের থাকতে হয়েছে বেশির ভাগ সময়ই। তারা রাজনীতির মাঠ ছাড়েননি। তেমনি একজন দিনারের বোন তামান্না। আন্দোলনে মাঠে থেকে এবার এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা নজির হোসেনের সহধর্মিণী সালমা নজির সংরক্ষিত নারী আসনে আসতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তৃণমূল রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের নিবেদিতপ্রাণ নজির হোসেনের পরিবারের প্রতি সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের বিশেষ আবেগকে কেন্দ্র করেই এই আলোচনার সূত্রপাত। তাছাড়া সালমা নজির দীর্ঘদিন থেকে ভাটি অঞ্চলের মানুষের পাশে থেকে বিএনপি’র ৩১ দফার প্রচার চালিয়েছেন।