জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এই গণভোটে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন যদি এই রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয় তাহলে আন্দোলনে যাবে বিরোধী জোট। মানবজমিন-এর সঙ্গে আলাপে জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এ কথা জানান।
সিঙ্গাপুর সফররত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মো. তাহের গতকাল মুঠোফোনে মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে তুলে ধরেন।
জামায়াত জনমানুষের সমর্থন পেয়েছে এবং জনগণ তার দলের প্রার্থীদের মন খুলে ভোট দিয়েছে দাবি করে আবদুল্লাহ তাহের বলেন, ক্যালকুলেটিব পদ্ধতিতে কমপক্ষে ৫০ আসনের ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টা পরিকল্পিতভাবে ১০ থেকে ১৫ হাজার ভোটের ম্যাকানিজম করে জামায়াত প্রার্থীদের পরাজিত করেছেন।
বলেন, আমাদের অধিকাংশ প্রার্থীর নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা ছিল না। জীবনে প্রথমবারের মতো ভোটযুদ্ধে নেমেছেন অধিকাংশ প্রার্থী। ভোটকেন্দ্রে কী ধরনের অনিয়ম কারচুপি হতে পারে তারা জানতেন না। তারা দেখেছেন মানুষ তাদের স্বতঃস্ফূর্ত ভোট দিচ্ছে। কিন্তু দিন শেষে এই ভোটের ফলাফল যে পরিবর্তন করা যায় সে ব্যাপারে তারা সতর্ক ছিলেন না। ফলে জনগণের ভোট তাদের পক্ষে পড়লেও গণনার সময় তা চলে গেছে প্রতিপক্ষের অনুকূলে। প্রমাণসহ ৩২টি আসনের ফলাফলের বিষয়ে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১১ দলের তরফে রাজধানীর রাজপথে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আভাস দেন তিনি।
নির্বাচনোত্তর জামায়াত আমীর ডা. শফিকুল রহমানের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎকে ইতিবাচক রাজনীতির সূচনা হিসেবে দেখেছেন আবদুল্লাহ তাহের। জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপি শপথ না নেয়ায় এবং জামায়াত জোট সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে না থাকা জনমনে কী বার্তা যায় এমন প্রশ্নে আবদুল্লাহ তাহের বলেন, আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার। আমরা যেকোনো ভালো কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবো। জামায়াত আমীর ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে সংসদের ভেতরে বাইরে সক্রিয় ভূমিকা রাখবো। তবে দেশের স্বার্থ জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ দেখলে প্রতিবাদ করবো।
তিনি বলেন, যে জুলাই অভ্যুত্থানের কারণে এই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে, আমরা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলাম, সেই জুলাই সংস্কার কমিশনকে অস্বীকার করা জুলাইযোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানির নামান্তর। এই ইস্যুতে আমরা কোনো ছাড় দিবো না। আমাদের আমীর ডা. শফিকুর রহমান পুনরাবৃত্তি করেছেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন না করলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। জুলাই না আসলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না এবং আমিও বিরোধীদলীয় প্রধান হতে পারতাম না। তাই আমাদের সবার উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা।