Image description

সম্ভাব্য সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে। খবর বেরিয়েছে, যে কোনো সময় ইরানে ‘বড় ধরনের সামরিক হামলা’ চালাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য সব রকমের প্রস্তুতিও শেষ করেছে পেন্টাগন। তবে কবে নাগাদ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, সে বিষয়ে এতদিন স্পষ্ট কোনো তথ্য গণমাধ্যমের খবরে উঠে না এলেও এবার নিজেই সময় নির্ধারণ করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে। যদি একটি ‘অর্থপূর্ণ চুক্তি’ না হয় তবে ‘খারাপ পরিণতি হতে পারে’। ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সেগুলো গঠনমূলক হলেও অতীতে এ ধরনের আলোচনায় অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন ছিল।

 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনের ‘ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস’-এ ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী বৈঠকে এই ঘোষণা দেন তিনি।

 

ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় নেতৃত্বদানকারী মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকভ এবং জ্যারেশ কুশনারের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, তারা ভালো মানুষ এবং ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘আরও এক ধাপ এগিয়ে’ যেতে পারে, যদিও একই সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশাও ব্যক্ত করেন।

 
 

 

ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘ডোনাল্ড জে ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিস’-এ শান্তি বোর্ডের উদ্বোধনী সভায় ট্রাম্প বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ শব্দ হলেও বাস্তবে তা অর্জন করা কঠিন। একাধিক বিশ্বনেতার উপস্থিতিতে তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসন প্রথম বছরেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা শক্তিশালী করতে দেখা গেছে। যদিও তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

 

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং আরও কঠোর ও বিস্তৃত নতুন চুক্তির পক্ষে অবস্থান নেন। তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলে পূর্ববর্তী চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

 

জেনেভায় সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান আলোচনা উভয় পক্ষই গঠনমূলক বললেও উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

 

ট্রাম্পের নির্ধারিত ১০ দিনের সময়সীমা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শিগগিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুহূর্ত আসতে পারে। যদিও তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা নেই, কূটনৈতিক চাপ, দৃশ্যমান সামরিক প্রস্তুতি এবং পারমাণবিক উত্তেজনার সমন্বয় সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন-ইরান সম্পর্ককে নতুন করে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

 

সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া