নতুন মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেয়েছেন যমুনা তীরবর্তী জেলা সিরাজগঞ্জের দুজন। তারা মামা ও ভাগনে। এই আনন্দে উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেছেন তারা। তারা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং তার ভাগনে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের এমপি এম এ মুহিত।
মামা মন্ত্রী ও ভাগনে প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় তাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে অভিনন্দন জানিয়েছেন নেতাকর্মী ও লোকজন। তাদের হাত ধরে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরুর প্রত্যাশা অনেকের।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য টুকুর ভাগনে ড. এম এ মুহিত, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও পরে কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বাবা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ছিলেন পাকিস্তান সরকারের শিল্পমন্ত্রী। ড. এম এ মুহিত সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. এম এ মতিনের ছেলে। তিনি শাহজাদপুর আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো দাঁড়িয়ে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দীর্ঘদিন পর জেলার রাজনীতিতে এমন প্রাপ্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় লোকজন। তাদের প্রত্যাশা, মামা মন্ত্রী ও ভাগনে প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় সমন্বিত উদ্যোগে যমুনা নদীর ভাঙনরোধ, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতি এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, একই জেলায় দুজন মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেতে দেখে আমরা অত্যন্ত খুশি। আশা করি তাদের নেতৃত্বে যমুনাপাড়সহ আমাদের এলাকার উন্নয়ন আরও দ্রুত গতি পাবে। অনেকেই বিশ্বাস করেন নতুন সরকার শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় জেলার সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তাদের হাত ধরে যমুনাপাড়ে শুরু হবে নতুন সম্ভাবনা।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের পর আজ যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, তা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। যোগ্যতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক অবদানের ভিত্তিতেই মামা মন্ত্রী এবং ভাগনে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন, সুশাসন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে যাবে।’