ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ৩০টি আসনে ভোট জালিয়াতি ও ফলাফল শিটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। এ দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যান জোটের নেতারা।
এ বিষয়ে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তথ্য জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি, ভোটারদের বাধা প্রদান, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ফলাফল শিটে ওভাররাইটিং ও ঘষামাজার মতো অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
জুবায়ের আরও বলেন, কিছু আসনে ফল প্রকাশে অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে, আবার কোথাও খুব দ্রুত ফল ঘোষণা করা হয়েছে—যা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের আশঙ্কা তৈরি করেছে। যেসব আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেসব আসনে পুনঃগণনার আবেদন করা হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনায় হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পাওয়া দলের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসেন হেলাল, ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, পাবনা-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলি উল্লাহ নোমান।
অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসেন হেলাল বলেন, সংশ্লিষ্ট ৩০টি আসনে পুনঃগণনা হলে প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ পাবে এবং যাদের পরাজিত দেখানো হয়েছে, তাদের অনেকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হবেন।
ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেন, তার আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ফলাফল শিটে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও এজেন্টদের নামের গরমিল, কোথাও এনআইডি নম্বর অনুপস্থিত, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওভাররাইটিং, কার্বন কপি করে লেখা, পেন্সিলে তথ্য লেখা, পোলিং এজেন্টের নাম না থাকা, ফটোকপির ফলাফল শিট ব্যবহার এবং প্রিন্টের পরিবর্তে কলম দিয়ে কেন্দ্রের নাম লেখার মতো বিষয় দেখা গেছে।
জোট সূত্রে জানা গেছে, যেসব আসনে পুনঃগণনার আবেদন করা হবে সেগুলো হলো— ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪।