Image description

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর এক সমর্থককে মারধর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামে তাঁর ওপরে হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত আহসান হাবীব নির্বাচনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ইসফা খায়রুল হকের (শিমুল) ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ধানের শীষের সমর্থকেরা তাঁর ওপর হামলা করেছেন।

আজ রোববার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আহসান হাবীবের হাতের আঙুলে ব্যান্ডেজ করা। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে চিহ্ন।

আহসান হাবীব বলেন, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে তিনি বিড়ালদহ বাজারে কেনাকাটা করছিলেন। তাঁর গ্রামের রশিদসহ (৬০) ১৫–১৬ জন দেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁরা বলেন, ‘শালা, তুই ইসফা খায়রুল হক শিমুলের (ঘোড়া) প্রতীকের ভোট করেছিস, আজ তোকে জানে মেরে ফেলব।’ রশিদের নির্দেশে তাঁর ছেলে রাসেল (৩২) লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। তিনি ডান হাত দিয়ে মাথা বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর ডান হাতের মাঝের দুটি আঙুল ভেঙে যায়। হামলাকারীদের মধ্যে একই গ্রামের আজাদ (৫০), শাকিল (৩৫), মারুফ (২১), লাল্টু (১৯), ইমনসহ (২২) আরও সাত–আটজন লোহার রড, লাঠি, হকিস্টিক নিয়ে তাঁর ওপরে হামলা চালান। তিনি দৌড়ে গিয়ে চালের দোকানের ভেতরে আশ্রয় নিতে গেলে হামলাকারীরা মাটিতে ফেলে পেটাতে থাকেন।

আহসান হাবীব আরও বলেন, হামলাকারীদের বাধার মুখে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রাসেলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সমর্থক রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান বলেন, এই আসনের বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম এই ধরনের সহিংসতার বিরোধী। তিনি সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পক্ষের মানুষ। তিনি এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইসলাম) ফরিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন কিন্তু এ ব্যাাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেননি।