Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক আলোচিত প্রার্থী এতই কম ভোট পেয়েছেন যে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার কাছাকাছিও আসতে পারেননি। এমনকি তাদের জামানত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ তালিকায় আছেন-জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, গত ৫ বারের এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাফিজউদ্দীন আহম্মেদ, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি রতনসহ অনেকেই।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ আসনে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলেও ওই আসনে জামানত হারিয়েছেন তারই বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক। জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো দলের বিপুলসংখ্যক প্রার্থীও তাদের জামানত হারিয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান আইন আরপিও অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আসনের প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

জানা গেছে, গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি লাঙ্গল প্রতীকে নিয়ে এ নির্বাচনে ভোট পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৭৫টি। এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৫২টি। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেজ ৮৯ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফারুক আলম সরকার পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৮৩ ভোট।

জানতে চাইলে শামীম হায়দার পাটোয়ারী যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে মাস্টার প্ল্যান করে জাতীয় পার্টিকে কম ভোট দেওয়া হয়েছে। নিজের আসনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গাইবান্ধার মতো জেলায় একটি আসনে আমার জামানত থাকবে না, এটা কোনোভাবেই হতে পারে না। ভোট গণনায় আমাদের ভোট বাদ দিয়ে দেওয়া বা অন্য প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের এমনই নির্দেশনা দেওয়া ছিল। তিনি উত্তরবঙ্গের আরও কয়েকজন দলীয় প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে বলেন, তাদেরও কম ভোট দেওয়া হয়েছে, যাতে সংসদের উচ্চকক্ষ বা নিুকক্ষে জাতীয় পার্টি যেতে না পারে।

ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ-রাণীশংকৈল) আসনে জামানত হারিয়েছেন ৫ বারের এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাফিজউদ্দীন আহম্মেদ। এ নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন মাত্র ২৭ হাজার ১৩৩ ভোট। এখানে এবার মোট ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১২৯ ভোটের মধ্যে পড়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৬৮টি। সে হিসাবে জামানত ফেরত পেতে তাকে পেতে হতো ৩২ হাজার ৮৩৩ ভোট।

হাফিজউদ্দীন আহম্মেদ ১৯৮৮, ২০০১, ২০০৮, ২০২৩ (উপ-নির্বাচন) ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ আসনে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক এমপি বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মিজানুর রহমান মাস্টার পেয়েছেন ৯১ হাজার ৯৩৪ ভোট।

নরসিংদী-৪ আসনে জামানত হারিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৮৩৯ ভোট। চার লাখ ২৮ হাজার ৯৫৪ জন ভোটারের এ আসনে পড়েছে দুই লাখ ৫৯ হাজার ৩৫৩ ভোট। বিএনপির সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এক লাখ ৬৩ হাজার ৩৯২ ভোট পেয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মো. জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৭৪৪ ভোট। একইভাবে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফিও দুইশ’র কম ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ছেলের কাছে পরাজিত হয়ে জামানত হারিয়েছেন তারই বাবা। এ আসনে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক পেয়েছেন মাত্র ৫০৫ ভোট। এ আসনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা এক লাখ ৭৪ হাজার ৩৩২।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফও জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে তিনি পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯০৬ ভোট। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট। এ আসনে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৪টি ভোট পড়েছে।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৩টি। মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২১ হাজার ৭০৬ ভোট। ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৯৯ ভোট। নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির জামানত হারিয়েছেন। আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩৮ ভোট। এ আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯২৩টি। বিএনপির প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ আট হাজার ৮৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. খবিরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৯ ভোট।