নোয়াখালীর হাতিয়ায় ধর্ষণ অভিযোগের পর নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের সদ্য বিজয়ী প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদকে ভিডিও কল দিয়ে ধর্ষণের খোঁজ নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি এ ঘটনায় নিজে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের নিবেন বলে আগামী সোমবার হাতিয়ায় যাওয়ার কথা জানান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে হান্নান মাসউদকে ভিডিও কল দিয়ে এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন তিনি। ভিডিও কলে কথা বলার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যমকে এ ঘটনা তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়ে ভিডিও কলে জামায়াত আমির বলেন, সহ্য হয় না এগুলো, ফ্যাসিবাদ বিদায় করলাম এগুলো দেখার জন্য। একটা মানুষ নির্বাচনে ভোট দেবে সে যাকে পছন্দ করে তাকে। তাকে অত্যাচার নির্যাতন করা মানুষের কার্যকলাপ হয় না, অন্য প্রাণীরও হয় না এরকম। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ তাকে এখনই ধরে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানাই। এটা ক্ষমার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এ পরিবারের পাশে আছি।
এর আগে শনিবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘নোয়াখালীর হাতিয়ায় ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেওয়ায়, তিন সন্তানের এক জননীকে ধর্ষণের যে অভিযোগ উঠেছে, তা শুনে আমি হতবাক, স্তম্ভিত।’
তিনি লেখেন, ‘অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে চানন্দী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে কয়েকজন ব্যক্তি তার ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে বেঁধে ফেলে এবং এনসিপিকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে তাকে পাশবিক নির্যাতন চালায়। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার চিকিৎসা চলছে।’
ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির জানান, ‘কিছুক্ষণ আগে ফোনে আমি ভুক্তভোগী নারী এবং তার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বললাম। তাদের এই অসহনীয় যন্ত্রণা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। কোনো ভাষা দিয়ে তাদেরকে সান্ত্বনা দিতে পারিনি। আমার পুরো নির্বাচনি প্রচার জুড়ে আমি কথা দিয়েছিলাম যে— প্রতিহিংসার রাজনীতি আর থাকবে না এবং আইনের শাসনের কোনো বিকল্প নেই, এটিই আমাদের ভিত্তি। যা ঘটেছে তা রাজনীতি নয়, এটি চরম ঔদ্ধত্য এবং এখনই এর অবসান হতে হবে। বিশেষভাবে নারীদের নিরাপত্তা সবার আগে।’
ডা. শফিক বলেন, ‘এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার আছে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার এবং কোনো ভয়ভীতি বা সহিংসতা ছাড়াই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন করার। কেউ ভোট দেওয়ার কারণে কাউকে আঘাত করার অধিকার রাখে না। আগামীকাল আমি সাক্ষাতে বিএনপি চেয়ারম্যানকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানাবো যে— তার দলের ভেতর থেকে এই ধরনের আচরণ দমনে আরও অনেক বেশি কঠোর হতে হবে। নেতৃত্ব মানেই হলো— শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা। আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে— দৃঢ়ভাবে, দ্রুত এবং কোনো ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই।’