Image description
তীব্র প্রতিক্রিয়া, রাজধানীতে বিক্ষোভ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ ও স্বামীকে বেদম মারধরের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে দলটি। এ ঘটনাসহ সব হামলা-সহিংসতার অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিচারিক তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

শনিবার রাতে দলটির দপ্তরের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এনসিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক সহিংসতা, হামলা ও সন্ত্রাসী তাণ্ডব সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত গুরুতর এবং নিন্দনীয়। উদ্বেগজনকভাবে, এ পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান বা দায়িত্বশীল বক্তব্য দেখা যায়নি; বরং তারা বিজয় উদযাপন নিয়ে ব্যস্ত—এমন ধারণা জনমনে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি করছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে স্বামীকে বেঁধে রেখে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে নারীর সম্ভ্রমকে লক্ষ্যবস্তু করাকে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের জঘন্যতম রূপ হিসেবে বর্ণনা করে এনসিপি বলেছে, পরদিন সকালে একই সন্ত্রাসী চক্রের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ভুক্তভোগীর বসতঘরে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে তাঁকে পুনরায় শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় এবং ঘটনা প্রকাশ করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। এমন নির্মমতার পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ অনুপস্থিত। স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ, দায়ীদের গ্রেপ্তার বা নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ এখনো স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়নি—যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত তিন দিনে হাতিয়ায় এনসিপির অন্তত ৫০০ নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শুধুমাত্র নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালেই এনসিপির আরও ১৩ জন আহত কর্মী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এলাকায় সুপরিকল্পিতভাবে ভীতি ও সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে বিরোধী মতের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে নিরুৎসাহিত হয়।

এনসিপি বলেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় ঘোষণার পর, ক্ষমতা গ্রহণের আগেই এ ধরনের সংঘবদ্ধ সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা কোনোভাবেই কম গুরুতর নয়; বরং এটি গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। বিএনপি যদি সত্যিই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তবে তাদের অবিলম্বে এই সন্ত্রাসের দায় এড়িয়ে না গিয়ে স্পষ্ট ও দায়িত্বশীল অবস্থান নিতে হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো চার দাবি হলো— ১) সকল ঘটনার অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিচারিক তদন্ত; ধর্ষণ, হামলা, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা জোরদার ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিতকরণ।

এসব দাবি জানিয়ে এনসিপি বলেছে, আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—ভোটাধিকার প্রয়োগের কারণে কোনো নাগরিকের ওপর এ ধরনের বর্বরতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষায় এনসিপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং এ বিষয়ে জাতির বিবেকবান মানুষ, গণমাধ্যম ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা।

এদিকে, শাপলাকলি মার্কায় ভোট দেওয়ায় নোয়াখালীতে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ এবং সারাদেশে বিএনপির 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের' প্রতিবাদে গতকাল রাত ১১টায় রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এনসিপি। বিক্ষোভ মিছিলটি বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ শহীদ হাদি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জুলাই স্তম্ভের নিচে বক্তব্য রাখেন এনসিপি নেতারা।

অন্যদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।