ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছুটিতে যাওয়া নগরবাসী ছুটি শেষে রাজধানীতে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটিতে যাওয়া এসব মানুষ নির্বাচনে ভোট ও গণভোট শেষে ফিরে যাচ্ছেন কর্মস্থলে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে খুলছে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস।
এতে বাস, রেল, লঞ্চ টার্মিনালে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে যানজটও তৈরি হয়েছে। ফিরে আসছে চিরচেনা নগরের চিত্র। শনিবার সকাল থেকে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল থেকে যাত্রী ও যানবাহন ভোগান্তি ছাড়াই ফেরিতে গন্তব্যে ফিরছে বলে জানান বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন।
সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচন শেষে ঘরে ফেরা মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। সড়কপথেও একই চিত্র দেখা গেছে। গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রীবোঝাই বাস ঢুকছে। সকাল থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও নেই ভোগান্তি। যানবাহনগুলো সরাসরি ফেরিতে উঠে গন্তব্যে চলে যাচ্ছে। এ নৌ-পথে ছোট-বড় মিলে ১৪টি ফেরি চলাচল করছে বলে জানান বিআইডব্লিউটিসির এ কর্মকর্তা।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে কর্মস্থলে ফেরা মানুষদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। ঝিনাইদহ-কোটচাঁদপুর থেকে গাবতলির উদ্ধেশ্যে রওয়ানা হন শামীম আহমেদ। রাজধানীর ঢাকায় নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করেন। রবিবার থেকে তার অফিস খোলা। তিনি বলেন, অনেক মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ এলাকায় ভোট দিতে এসেছিলেন। আমিও অনেক কষ্ট করে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলাম ভোট দিতে। ভোট দিয়ে খুব ভালো লেগেছে। আমার অফিসে ডিউটি করতে হবে তাই চলে এসেছি। রোববার থেকে অফিস করবো। তবে ফেরার পথে দ্বিগুণ ভাড়া বেশি নিচ্ছে চালকরা।
জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে নারায়নগঞ্জের বাড়ি এসেছিলেন কুতুবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রুকাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, আমি একটি পরিবার নিয়ে ঢাকার কদমতলী থানা এলাকায় থাকি। এবার ছুটিতে এসে জীবনে প্রথমবার ভোট দিয়েছি। প্রথমে ভয় লাগলেও ভোট দিতে পাড়ায় খুব ভালো লেগেছে। আগে শুনতাম ভোট কেন্দ্রে মারামারি হতো। এবার আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনি সক্রিয় থাকায় সুন্দর ও নিরাপদে ভোট দিতে পেরেছি।
ঝিনাইদহ থেকে মোটরসাইকেলে করে ঢাকায় ফিরছিলেন ইমরান রহমান। বললেন, ভোট দিতে বাড়িতে গিয়েছিলাম। ছুটি শেষ এখন ঢাকায় ফিরছি। পথে কোনো ভোগান্তি নেই। ফেরিঘাটেও তেমন ভোগান্তি ছিল না। ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী শুভ বসুন্ধরা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার অর্জুন বলেন, সকাল থেকে আমাদের ছয়টা বাস যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরছে। মহাসড়কে তেমন জ্যাম নেই। ফলে যাত্রীরা স্বস্তিতেই ফিরতে পারছেন। তবে আগামীকাল এ পরিমাণ আরো বাড়বে। কারণ কাল থেকে পুরোদমে অফিস চালু হবে।
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একের পর এক যাত্রীবোঝাই ট্রেন ঢাকায় ফিরছেন। অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই এসেছে। ঢাকায় ফেরার ট্রেনগুলোতে যাত্রী উপস্থিতি ছিল বেশি। কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সকাল থেকে সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে আসা বেশির ভাগ ট্রেনেই যাত্রীপূর্ণ ছিল।’ দুপুরের পর থেকে ঢাকায় ফেরার চাপ আরও বাড়বে এবং তা রোববার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।