Image description
 

কুমিল্লা-১০ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন মুফতি মো. শামছুল্লাহ। পেশায় একজন খতিব ছিলেন এ প্রার্থী। বৃহস্পতিবার ঘোষিত ফলাফলে তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারনে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে চিঠি দিয়েছে মসজিদ কমিটি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানান মুফতি মো. শামছুল্লাহ।

তিনি বলেন, ২২ জানুয়ারি মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে খতিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যা ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে তাকে জানানো হয়েছে।

 

মসজিদ পরিচালনা কমিটির জারি করা অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা-১০ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি মসজিদের পরিচালনা নীতিমালা, ২০২৫ এবং সরকারি মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘন করেছেন। মুফতি শামছুল্লাহ দীর্ঘ একযুগ থেকে ঢাকা ধানমন্ডির সাইন্সল্যাব কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সদ্য সমাপ্ত হওয়া জাতীয় নির্বাচনে তিনি প্রার্থী ছিলেন।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

মুফতি শামছুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ একযুগ ধরে তিনি সাইন্সল্যাব কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আমার ব্যক্তিগত, ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়মতান্ত্রিক ছুটি নিয়ে আমি প্রচারণা চালিয়েছি।

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে তাকে ও আরিফ বিন হাবিব নামে অপর এক আলেমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এবারও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক ব্যক্তির প্রভাব ও সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার কারনে পরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

মুফতি শামছুল্লাহ বলেন, এভাবেই আলেমসমাজকে জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখা থেকে বিরত রাখা হয়। পরে প্রশ্ন তোলা হয়, আলেমরা কেন জাতীয় ইস্যুতে ভূমিকা রাখেন না? তিনি এ সিদ্ধান্তকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে কথিত বানোয়াট নীতিমালার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত জুমার নামাজে উপস্থিত থাকার কথাও জানিয়েছেন।

তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।