২০২৬ এর ইলেকশন এক ঐতিহাসিক ইলেকশন।
এই ইলেকশনের অর্জন
* সহিংসতা মুক্ত নির্বাচন
* ফ্যাসিস্ট ও তার দোসর মুক্ত সংসদ
* সংষ্কারের পক্ষে হ্যা
* গণতন্ত্রের পথে নুতন যাত্রা
* শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর
* সিভিল ও মিলিটারি প্রশাসনের ভাবমূর্তি কিছুটা পুনরুদ্ধার
* ড. ইউনুস এর ভাবমূর্তি আরও উজ্বল হওয়া
তবে ফলাফল ঘোষণা নিয়ে টালবাহানা না হলে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও বলিষ্ঠ হলে নির্বচন নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলার সুযোগ সৃষ্টি হত না।
এই নির্বাচনে
* বিএনপি ভূমি ধ্বস বিজয় অর্জন করেছে
* জামায়াত প্রথম বারের মত বিরোধী দলের মর্যাদা লাভ করেছে
* তরুনদের দল এনসিপি দাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে
তবে সবচেয়ে দরকারি জিনিসটাই অর্জন হয়নি, সেটা হলো সরকারি দলের দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটি ঠেকানো। দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটি যে পেয়েছে সেই ডুবেছে এবং দেশকেও ডুবিয়েছে। সেক্ষেত্রে বিএনপির জন্যই সামনে বড় চেলেঞ্জ।
জামায়াত আসন কম পাওয়ায় যারা এই নির্বাচন কে ২০০৮ নির্বাচন এর সাথে তুলনা করছেন তারা নিজেদের অর্জনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। ২০০৮ এ নির্বাচনে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র আওয়ামী লীগ কে জিতানোর জন্য কাজ করেছে এবার তার তুলনায় কিছুই হয়নি। বরং মাঠে প্রতিরক্ষা বাহিনী শক্ত অবস্থান না নিলে ফলাফল আরও খারপ হত।
জামায়াতের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ার মূল কারণ
* জোটের নেগোশিয়েশন ও প্রার্থী সিলেকশনে বড় ধরণের ব্লান্ডার করা
* পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় এত বড় স্কেলে ইলেকশন কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাপক অদক্ষতা
* ৫ আগস্ট পর নিজস্ব কোন মিডিয়া সৃস্টিতে নজর না দেওয়া
* কালো টাকা মোকাবেলা করতে না পারা
* আওয়ামী ভোটারদের বিএনপিকে একচেটিয়া ভোট দেওয়া
* নিরীহ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসতে আস্বস্ত করতে না পারা।
এই মুহুর্তে বিরোধী জোটের উচিৎ ফলাফল মেনে নিয়ে গঠন মূলক ভূমিকা করা, বিএনপি বাড়াবাড়ি করতে চাইলে তা প্রতিহত করা এবং দলীয় নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত রাখা।
বিএনপি গণভোটে হ্যা এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, সুতারাং গণভোটে পাশ হওয়া সংস্কার বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করাই এই মুহুর্তের রাজনৈতিক লক্ষ্য হওয়া উচিৎ।
শেখ মাসউদ