নির্বাচনে কারচুপি ও ফল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ এনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা। জানা গেছে, রাত ৩টার দিকে জোটভুক্ত আরও কয়েকটি দলের অংশগ্রহণে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন স্থানে অনিয়ম, ফলাফল পরিবর্তন ও গণনা নিয়ে বিতর্কের অভিযোগ পর্যালোচনা করতেই এ জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠক থেকে সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্তও আসতে পারে বলে জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া এক জামায়াত নেতা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, “দিনব্যাপী বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া কারচুপি ও ফল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগগুলো জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করতে আমরা বৈঠকে বসছি। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তিনি বৈঠক শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান।
এদিকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলে বলেন, কিছু আসনে ইঁদুর-বিড়াল খেলা কেন? এমনকি ঢাকা-৮ আসন এখনো ঝুলে থাকবে কেন? সেখানে কী হচ্ছে আপনারা সাংবাদিকরা জানেন। এগুলো সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিচয় নয়, অসুস্থ ধারার রাজনীতি। বিষয়গুলো আমরা বিবেচনায় নেব এবং জাতিকে যতটুকু জানানো দরকার মনে করব, জানাব যাতে ভবিষ্যতে একই মন্দ কাজের চর্চা বা ধারাবাহিকতা না থাকে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, মাঝখান থেকে উদাহরণ হয়ে গেল, আবার নাই। আমাদের লোকদেরকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হলো। একটু আগে উনারা একদম প্রথম পর্যায়ে ১০টা–১২টা কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা শুরু করেছেন। সেটাও বেসরকারিভাবে। সব মিলিয়ে এখন আপনাদের সামনে পূর্ণাঙ্গ কোনো বক্তব্য দিতে পারছি না বলে আমরা দুঃখিত।
তিনি বলেন, আমরা দেব, ইনশাআল্লাহ। আমরা আবার বসব, নিজেদের মধ্যে বসে এগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করব। আমাদের কোনো ত্রুটি-ঘাটতি থাকলে সেটা দেখব। আবার যদি সামগ্রিক কোনো বড় ত্রুটি-ত্রুটি থাকে, সেটাও আমরা সামনে আনব। আমরা আগেই বলেছি, ছোটখাটো কোনো বিষয় নিয়ে আমরা টানাটানি করব না। পুরোনো রাজনীতির সংস্কৃতিতে আমরা ফিরে যেতে চাই না। আমরা ইতিবাচক ধারার রাজনীতি করতে চাই।
তিনি বলেন, রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয়, তাহলে যারা রাজনীতি করবেন, তাদেরকে মেনে নিতে হবে পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে কোনো নির্বাচন হয় না, কোনো রাজনীতি হয় না। আপনি মানুষের কাছে যাবেন আপনার বক্তব্য নিয়ে। মানুষ যেভাবে গ্রহণ করবে, যতটুকু গ্রহণ করবে, তার জন্য তাদের অভিনন্দন জানানো উচিত।