নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আগাম মন্তব্য নয়, জনগণের রায়ের অপেক্ষায় আমরা রয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহুবার নিষিদ্ধ হওয়া এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া ইতিহাস স্মরণ করেন। প্রয়াত নেতৃবৃন্দকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে আল্লাহর কাছে তাদের উত্তম প্রতিদানের দোয়া করেন। এ ছাড়া ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জামায়াত আমির বলেন, সরাদেশ থেকে প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করলেও এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলার সময় হয়নি। ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনগণের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করাই সম্মানজনক।
তিনি জানান, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা অনেক জায়গায় এগিয়ে থাকার আভাস মিললেও এটি চূড়ান্ত ফল হিসেবে দেখা যায় না। জনগণ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে ইতিবাচক কাজের সমর্থন এবং ভুলত্রুটিতে যৌক্তিক সমালোচনা করার জন্য তিনি উন্মুক্ত থাকবেন।
জামায়াত আমির বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজনীতিবিদ ও সংবাদমাধ্যম—এই দুই পক্ষ মিলেই সমাজকে পূর্ণভাবে দেখতে পারে।
তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রবাসীদের অবদানেও গুরুত্ব দেন। শুধুমাত্র ‘ফিনান্সিয়াল রেমিটেন্স’ নয়, ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিটেন্স’-এর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নসহ বিভিন্ন নীতিগত কাজে প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানান। বিদেশে আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রবাসীদেরও সম্মান জানান।
নারী অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসনীয় ছিল এবং সরকারের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন এবং প্রতিবেশী দেশসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলবেন। শেষমেষ দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশ ভালো থাকলে আমরা সবাই ভালো থাকব।
এর আগে রোজার কারণে শারীরিক দুর্বলতার কারণে নির্ধারিত সময় থেকে কিছুটা পরিবর্তিত হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।