দেশের বর্তমান সময়ের আলোচিত ইসলামিক স্কলার মুফতি আলী হাসান উসামার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘ধান ছিটিয়ে কবুতর আনা যায়; বাজপাখি নয়। বাঘ গুপ্তই থাকে; কুকুর দিনভর চেঁচিয়ে যায়।’ তার এই রূপকধর্মী ও তীক্ষ্ণ বক্তব্যটি মুহূর্তের মধ্যেই ভার্চুয়াল জগতে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মাঝে নানা কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দেয়।
স্ট্যাটাসটি দেওয়ার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ এটি শেয়ার করেন এবং হাজার হাজার মানুষ এর ওপর মন্তব্য করে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
মুফতি উসামার এই স্ট্যাটাসে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, যেখানে অধিকাংশ অনুসারীই তার বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন। ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে এক ব্যক্তি তার মন্তব্যে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’
রুবেল ইসলাম নামের অপর একজন ব্যবহারকারী তার মন্তব্য প্রকাশ করতে গিয়ে উসামার বক্তব্যকে মিসাইলের চেয়েও তীক্ষ্ণ গতিসম্পন্ন বলে অভিহিত করেছেন। মূলত তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে এক ধরনের দৃঢ় অবস্থান ও প্রতিপক্ষের প্রতি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সাম্প্রতিক সময়ে মুফতি আলী হাসান উসামার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে তার জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করার পর থেকে এই আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
জামিল শরীফ নামের এক অনুসারী মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর অবর্তমানে একজন যোগ্য উত্তরসূরী খুঁজে পেয়েছে। অন্যদিকে, যারা তার জামায়াতে যোগদানের বিরোধিতা করছেন, তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে ফরহাদ হোসেন হৃদয় নামের এক সমর্থক লিখেছেন, ‘একের পর এক ইয়র্কার ডেলিভারি, প্রতিপক্ষ ছন্দ হারায় ফেলবে তো!’
মুফতি আলী হাসান উসামা।
মুফতি আলী হাসান উসামা তার ভক্ত ও অনুসারীদের কাছে একজন স্পষ্টভাষী বক্তা হিসেবে পরিচিত। তার প্রতিটি বক্তব্য বা ফেসবুক পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এবারের এই রূপকধর্মী স্ট্যাটাসটিও তার অনুসারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্যগুলো বর্তমান সময়ের আলোচিত ইস্যুগুলোতে এক ধরনের প্রভাব বিস্তার করছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ তার এই প্রতিবাদী ও দার্শনিক ধাঁচের কথাগুলো বেশ আগ্রহের সাথে গ্রহণ করছে বলে প্রতীয়মান হয়।