আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি জনমত জরিপ পরিচালনা করেছে এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি)। প্রায় সাড়ে ৪১ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে করা এ জরিপে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।জরিপের ফলাফলে বলা হয়, ভোট অনুষ্ঠিত হলে বিএনপি জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয় পেতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৪৬টি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য রাজনৈতিক দল ৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছে।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের থ্রিডি সেমিনার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে ইএএসডি। সংস্থাটির দাবি, চলমান নির্বাচনকেন্দ্রিক জরিপগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় পরিসরের নমুনাভিত্তিক জরিপ।
জরিপে অংশ নেওয়া মোট ৪১ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে পুরুষ ছিলেন ২৬ হাজার ৫৬০ জন, যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৬৪ শতাংশ। নারী অংশগ্রহণকারী ছিলেন ১৪ হাজার ৯২২ জন বা ৩৬ শতাংশ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল ৩৭.২ শতাংশ। এছাড়া ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীর হার ছিল ৪৫.২ শতাংশ, যেখানে ৩১-৪০ বছর বয়সী ২৭.৫ শতাংশ এবং ৪১-৫০ বছর বয়সী ১৭.৭ শতাংশ।জরিপে উল্লেখ করা হয়, তরুণ প্রজন্মের এই উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তাদের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।পেশাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১.৯ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী। এর মধ্যে বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী ৫ শতাংশ এবং ছোট ব্যবসায়ী ১৬.৯ শতাংশ। কৃষি ও গ্রামীণ শ্রমজীবী খাত থেকে অংশগ্রহণ ছিল ১৩.২ শতাংশ। গৃহস্থালি ও অনানুষ্ঠানিক খাত থেকে ১৯.১ শতাংশ এবং শিক্ষার্থী ছিলেন ১৪.৫ শতাংশ।
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখতে চান—এ প্রশ্নে সর্বাধিক ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে মত দিয়েছেন ১৪ শতাংশ উত্তরদাতা। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নাম উল্লেখ করেছেন ২ শতাংশ। তবে ১৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এ বিষয়ে কোনো মত দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইএএসডির উপদেষ্টা কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর। ফলাফল উপস্থাপনার পর আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম ও অধ্যাপক নাহরীন আই খান, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সহযোগী অধ্যাপক তৌফিক জোয়ার্দার এবং নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন।
জনকণ্ঠ