Image description

শনিবার দুপুর ১২টা। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি। অনেকটাই সুনসান নীরবতা। বাস–গাড়ি ভরে ভরে এখন আর কেউ আসেন না। অথচ আওয়ামী লীগের শাসনামলে বছরজুড়েই মানুষের ভিড় থাকত।

বঙ্গবন্ধুর সমাধি চত্বরের সব ফটকই ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বন্ধ। ভেতরে–বাইরে পুলিশের পাহারা। ৩ নম্বর ফটকের কাছে একটি চায়ের দোকানে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি আড্ডা দিচ্ছিলেন। ভোটের খবর জানতে চাইলে কারও মধ্যেই তেমন একটা আগ্রহ দেখা গেল না। একজন জানালেন, তিনি ভোট দিতে যাবেন না। আরেকজনের সঙ্গে আলাপ করে মনে হলো, তাঁর পরিবারের সদস্যদের অনেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের পদধারী। তিনি বলেন, কিছু মানুষ তো ভোট দিতে যাবেন। ভোটের হার খুব কম হবে।

অবশ্য গোপালগঞ্জ জেলা শহর বা জেলার অন্য উপজেলাগুলোয় ভোটের আগ্রহ কিছুটা বেশি দেখা গেল। পাড়া–মহল্লায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যানার–পোস্টার যথেষ্ট রয়েছে। মাইকে ভোটের প্রচারও শোনা গেল। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীদের অনেকেই। বিএনপি, জামায়াত, স্বতন্ত্রসহ অন্য দলের প্রার্থীরা যোগ দিচ্ছেন উঠান বৈঠক, সভা–সমাবেশ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা রয়েছে। টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া ছাড়া গোপালগঞ্জ শহর ও অন্যান্য উপজেলায় ভোটারের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হবে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

ভোটের খবর জানতে চাইলে কারও মধ্যেই তেমন একটা আগ্রহ দেখা গেল না। একজন জানালেন, তিনি ভোট দিতে যাবেন না। আরেকজনের সঙ্গে আলাপ করে মনে হলো, তাঁর পরিবারের সদস্যদের অনেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের পদধারী। তিনি বলেন, কিছু মানুষ তো ভোট দিতে যাবেন। ভোটের হার খুব কম হবে।

গোপালগঞ্জকে বলা হয় আওয়ামী লীগের দুর্গ। জেলায় সংসদীয় আসন তিনটি। ১৯৯১ সালের পর এসব আসনে আওয়ামী লীগের বাইরে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেনি।

এবার সারা দেশের মতো এই দুর্গে ভোটের মাঠে নেই আওয়ামী লীগ। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ, নেতারা কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে। বারবার সংসদ সদস্য হয়ে প্রধানমন্ত্রী–মন্ত্রী হওয়া শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম ও ফারুক খান ভোটের মাঠে নেই। ফলে নির্বাচনের মাঠে সবচেয়ে বেশি তৎপর বিএনপির প্রার্থীরা। তাল মেলানোর চেষ্টা করছেন স্বতন্ত্র, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা।

গোপালগঞ্জ–২ (সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনের উলপুর ইউনিয়নের ভোটার আজিজুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম ও ফারুক খান গোপালঞ্জের ভোটে নেই—এটা নতুন অভিজ্ঞতা। আওয়ামী লীগের এসব নেতার জায়গায় কারা আসছেন—এই নিয়ে মানুষের কিছুটা আগ্রহ আছে। তবে গোপালগঞ্জে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে না। আগে লক্ষাধিক ভোটে জিততেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এবার অল্প ভোটেই হয়তো নতুন ‘রাজা’ নির্বাচিত হবেন।

গোপালগঞ্জের তিনটি আসনের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, এই জেলায় গণভোটে ‘না’–এর পক্ষে বেশি সমর্থন দেখা যেতে পারে।

স্থানীয় রাজনীতিক ও ভোটাররা বলছেন, এই অঞ্চলের অন্য জেলাগুলোর মধ্যে ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী। ফলে দলটির ভোটে না থাকার প্রভাব কিছুটা আছে। দলটির ভোটারদের যাঁরা কেন্দ্রে যাবেন, তাঁদের ভোট ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

গোপালগঞ্জ–২ (সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনের উলপুর ইউনিয়নের ভোটার আজিজুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম ও ফারুক খান গোপালঞ্জের ভোটে নেই—এটা নতুন অভিজ্ঞতা। আওয়ামী লীগের এসব নেতার জায়গায় কারা আসছেন—এই নিয়ে মানুষের কিছুটা আগ্রহ আছে। তবে গোপালগঞ্জে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে না।

ভোটে উৎসাহ কম

ভোটে আওয়ামী লীগ নেই, সেটা ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ না থাকা একটা কারণ। তবে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে মনে হলো, উৎসাহ না থাকার আরেকটি কারণ মামলা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্ক।

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পাঁচ দিন পর ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে গোপালগঞ্জ সদরের গোপীনাথপুর বাসস্ট্যান্ডে দেশি অস্ত্র নিয়ে মহড়া ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। ওই দিন সেনাসদস্যদের ওপর হামলা করা হয়। এতে সেনাবাহিনীর চার কর্মকর্তাসহ নয়জন আহত হন। অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

গত বছর জুলাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মার্চ টু গোপালগঞ্জ কর্মসূচিতে হামলা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন।

ভোটে আওয়ামী লীগ নেই, সেটা ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ না থাকা একটা কারণ। তবে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে মনে হলো, উৎসাহ না থাকার আরেকটি কারণ মামলা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্ক।

জানা গেছে, শেখ হাসিনার পতনের পর হত্যাসহ নানা অভিযোগে গোপালগঞ্জ জেলায় ১৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১ হাজার ২৫২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৪ হাজার ৯৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মী। কেউ কেউ ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থে বিএনপিসহ অন্য দলের হয়ে ভোটের মাঠে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।

টুঙ্গিপাড়ার স্থানীয় একজন বলেন, তাঁর স্ত্রী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। আট মাস কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছেন। তাঁর পরিবারের লোকজন চুপচাপ আছেন।

গোপালগঞ্জ–১

মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ–১ আসন। এখানে ১৯৯৬ সাল থেকে টানা ছয়বার সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের ফারুক খান। তিনি এখন কারাগারে।

এবার আসনটি পেতে ব্যাপক প্রচারে নেমেছেন বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্যা। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।

অতীতের নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেনি। তবে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় তৎপর সেলিমুজ্জামান। এবার প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তিনি গ্রামে গ্রামে, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও হাটবাজারে যাচ্ছেন।

এই আসনে মোট প্রার্থী নয়জন। এর মধ্যে সেলিমুজ্জামান ছাড়া ভোটের মাঠে বেশি তৎপর আছেন জামায়াতের মুহাম্মাদ আবদুল হামীদ মোল্লা। গোপালগঞ্জে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি বরাবরই দুর্বল ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের পতনের পর তারা শক্তি সঞ্চয় করেছে। তাদের ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কিছু ভোট রয়েছে।

এই আসনে আরও দুই আলোচিত প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের মো. কাবির মিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আশ্রাফুল আলম। দুজনই কারাগারে আছেন।

নির্বাচনী প্রচারে গোপালগঞ্জ–১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মাদ আবদুল হামীদ।  শনিবার মুকসুদপুরে
নির্বাচনী প্রচারে গোপালগঞ্জ–১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মাদ আবদুল হামীদ। শনিবার মুকসুদপুরেছবি: প্রথম আলো

কাবির মিয়া মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ফারুক খানের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে কোণঠাসা ছিলেন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফারুক খানের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করে এক লাখের বেশি ভোট পান। পরাজিত হন ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে। কাবির মিয়ার একটা নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। তারা ভোটকেন্দ্রে গেলে এবারের নির্বাচনেও তিনি চমক দেখাতে পারেন।

অবশ্য স্থানীয় লোকজন বলছেন, আগের নির্বাচনে কাবির মিয়া স্বতন্ত্র ভোট করলেও এবার গণ অধিকারের প্রার্থী হয়েছেন। এতে আগের সহানুভূতি ও আওয়ামী লীগের বিভক্ত ভোট না–ও পেতে পারেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আশ্রাফুল আলমের বাবা ছিলেন মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান। আশ্রাফুল ছিলেন মুকসুদপুর পৌরসভার সর্বশেষ মেয়র। তবে তিনি সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের সঙ্গে সখ্য রেখে চলতেন।

এবার আশ্রাফুল বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা না করে সরাসরি স্বতন্ত্র ভোটে নেমেছেন। তাঁরও কিছুটা সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

মুকসুদপুর পৌরসভার ভোটার তরিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ না থাকায় ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। বিএনপির প্রচার বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে এ আসনে লড়াই হবে চতুর্মুখী।

শেখ সেলিমের সাম্রাজ্যে লড়াই বহুমুখী

গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানীর আংশিক) আসনে ১৯৮৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্য ছিলেন শেখ সেলিম। ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচনগুলোতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের কেউ ১০ হাজার ভোট ছাড়াতে পারেননি। আওয়ামী লীগের পতনের পর শেখ সেলিম আত্মগোপনে চলে গেছেন।

এই আসনে এবার প্রার্থীর সংখ্যা ১৩। তবে আসনটি দখলে নিতে বিএনপি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ও স্বতন্ত্র কয়েকজন প্রার্থী ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি, খেলাফত মজলিস ও একাধিক স্বতন্ত্রের মধ্যে ভোটের কাটাকাটি হবে।

মুকসুদপুর পৌরসভার ভোটার তরিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ না থাকায় ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। বিএনপির প্রচার বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে এ আসনে লড়াই হবে চতুর্মুখী।

বিএনপির প্রার্থী কে এম বাবর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা। ছাত্রজীবনে যুক্ত ছিলেন ছাত্রদলের রাজনীতিতে। স্থানীয় ভোটারদের মতে, দলীয় ভোট তাঁর পক্ষেই যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তবে এই আসনে বিএনপির গলার কাঁটা হয়ে আছেন দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাঁরা হলেন এম এইচ খান মনজু ও সিরাজুল ইসলাম। তাঁরা দুজনই বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে পাননি। এম এইচ খান মনজু গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। একসময় জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। অন্যদিকে সিরাজুল ইসলাম বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পর এম এইচ খান মনজু ও সিরাজুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তাঁরা বিএনপির প্রার্থীকে বেকায়দায় ফেলে দিতে পারেন—এমন আলোচনা আছে।

তবে এই আসনে বিএনপির গলার কাঁটা হয়ে আছেন দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাঁরা হলেন এম এইচ খান মনজু ও সিরাজুল ইসলাম।

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি শুয়াইব ইবরাহীম। তিনি ইসলামপুর ভবানীপুর মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল। পারিবারিকভাবে তাঁরা গোপালগঞ্জ শহরে পরিচিত। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য শরিকদের ভোট তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিয়ে এসেছে।

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন কামরুজ্জামান ভূঁইয়া। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছিলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সর্বশেষ চেয়ারম্যান। তিনি আওয়ামী লীগের ভোট টানার চেষ্টা করছেন।

এই আসনে ভোটার ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৬ জন। সংখ্যালঘু ভোটার প্রায় ৩০ শতাংশ।

স্থানীয় ভোটার আবু তালেব শেখ বলেন, বিএনপি ও জামায়াত জোটের প্রার্থীদের স্বতন্ত্র তিনজন প্রার্থীর সঙ্গে কঠিন লড়াই করতে হবে। এ ছাড়া সংখ্যালঘু স্বতন্ত্র প্রার্থী উৎপল বিশ্বাস উত্তর গোপালগঞ্জের ভোট টানতে পারেন। ফলে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কার ভাগ্যে জয় জুটবে, তা বলা মুশকিল।

বঙ্গবন্ধুর সমাধির কাছেই পাটগাতী বাজার। শনিবার বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা গেল, বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানীর পক্ষে ভোট চাইছেন বেশ কয়েকজন। এলাকাটিতে ভোটারের আগ্রহ কম থাকলেও প্রচারে এগিয়ে জিলানী। ভোটারদেরও ধারণা, রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে জিলানীর প্রচারই দৃশ্যমান।

শেখ হাসিনার আসনে জিলানীর উত্থান

টু্ঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া নিয়ে গঠিত আসনটি হলো গোপালগঞ্জ–৩। ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতিবারই আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য হয়েছেন। এটি বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থানও।

টুঙ্গিপাড়ায় ভোটার এক লাখের কম। কোটালীপাড়ায় দুই লাখের ওপরে, বেশির ভাগ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

পাটগাতী বাজারের দোকানদার আহমদ আলী মুন্সী বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা খুব কমই ভোট দিতে যাবেন। সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগের ভোট যেদিকে যাবে, সেদিকে পাল্লা ভারী হয়ে যাবে।

বঙ্গবন্ধুর সমাধির কাছেই পাটগাতী বাজার। শনিবার বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা গেল, বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানীর পক্ষে ভোট চাইছেন বেশ কয়েকজন। এলাকাটিতে ভোটারের আগ্রহ কম থাকলেও প্রচারে এগিয়ে জিলানী। ভোটারদেরও ধারণা, রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে জিলানীর প্রচারই দৃশ্যমান।

এস এম জিলানী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফলে এলাকায় তাঁর পরিচিতিও আছে। তাঁর বাড়ি শেখ হাসিনার পিতৃভিটার দুই কিলোমিটারের মধ্যে।

পাটগাতী বাজারের দোকানদার আহমদ আলী মুন্সী বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটাররা খুব কমই ভোট দিতে যাবেন। সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগের ভোট যেদিকে যাবে, সেদিকে পাল্লা ভারী হয়ে যাবে।

টুঙ্গিপাড়াতেই এই এলাকার নামকরা গহরডাঙা মাদ্রাসা। এ এলাকার আবির হোসেন বলেন, তিনি এবার প্রথমবার ভোটার হয়েছেন। ভোট দিতে যেতে চান। ভোটের আগের দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ভোট দেবেন।

এই আসনে মোট প্রার্থী আটজন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীর বাইরে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবদুল আজিজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের মারুফ শেখের প্রচার দেখা গেছে।

গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়। এরপরও সংখ্যালঘু ভোটাররা তাঁকে বেছে নেবেন—এ আশায় গোপালগঞ্জে নির্বাচন করছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গহরডাঙ্গা মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ভোট এবং জামায়াতের ভোটের ওপর নির্ভরশীল।

ভোটের আগে আওয়ামী লীগ তাদের নেতা–কর্মীদের কোনো নির্দেশনা দেয় কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে গোপালগঞ্জে ভোটার উপস্থিতি কম হবে এবং গণভোটে না ভোট জয়ী হতে পারে। এর বাইরে বিএনপির প্রার্থীদের অবস্থা ভালো। এখন আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘুরা কী অবস্থান নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি রবীন্দ্র নাথ অধিকারী

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন চাননি। কিন্তু হঠাৎ তিনি কেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এই আসনে এস এম জিলানী এগিয়ে আছেন। তবে গোবিন্দ চন্দ্র সংখ্যালঘু ভোট পেলে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে পারেন জিলানী।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি রবীন্দ্র নাথ অধিকারী প্রথম আলোকে বলেন, ভোটের আগে আওয়ামী লীগ তাদের নেতা–কর্মীদের কোনো নির্দেশনা দেয় কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে গোপালগঞ্জে ভোটার উপস্থিতি কম হবে এবং গণভোটে না ভোট জয়ী হতে পারে। এর বাইরে বিএনপির প্রার্থীদের অবস্থা ভালো। এখন আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘুরা কী অবস্থান নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।