ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নির্বাচনি মাঠ। মহানগরীর ব্যস্ত সড়ক থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে প্রার্থী ও সমর্থকদের গণসংযোগে সরগরম পরিবেশ। নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে চায়ের দোকান, অফিসপাড়া এমনকি পাড়া-মহল্লার আড্ডাতেও।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার ১৬টি আসনের অধিকাংশে মূল লড়াই হবে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে। তাদের ভাষ্যমতে, ১৬টি আসনের প্রতিটিতেই এই দুই রাজনৈতিক জোটের প্রার্থীরাই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা পর্যন্ত। এরপর প্রচারণা শেষ। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।
এবার চট্টগ্রামে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৈচিত্র্যময়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২৫টি রাজনৈতিক দলের ১১৫ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। ১৬টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতিও এখন শেষ পর্যায়ে।
এসব আসনের মধ্যে অন্তত ১২টিতে বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। বাকি চারটির একটিতে বিএনপির এবং আরেকটিতে জামায়াতের প্রার্থী শক্ত অবস্থানে আছেন। অপর দুটিতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দুই দলই পড়তে পারে বিপাকে। যা শেষ পর্যন্ত ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ১২ আসন
চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির নুরুল আমিন, জামায়াতের মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের এ কে এম আবু ইউছুপ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম, ইসলামী আন্দোলনের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন। আসনটিতে বিএনপির নুরুল আমিনের সঙ্গে জামায়াতের ছাইফুর রহমানের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮১১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া ভোটার আছেন চার জন। ১০৬টি কেন্দ্রের ৭১৮টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আট জন লড়ছেন। তারা হলেন- বিএনপির সরোয়ার আলমগীর, জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির দুই প্রার্থী শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ ও মো. ওসমান আলী, জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী, স্বতন্ত্র আহমদ কবির ও জিন্নাত আকতার, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে বিএনপি, জামায়াত এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মধ্যে। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৯ হাজার ১৯৩ জন, নারী ২ লাখ ২৯ হাজার ২৫৯ জন এবং হিজড়া ভোটার একজন। ১৪২টি কেন্দ্রের ৯০২টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে চার জন নির্বাচন করছেন। তারা হলেন- জামায়াতের মুহাম্মদ আলাউদ্দীন, বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ও স্বতন্ত্র মো. মোয়াহেদুল মাওলা। এখানে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে লড়াই হবে বলছেন ভোটাররা। আসনটিতে ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭২৭ জন, নারী ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৪ জন এবং হিজড়া ভোটার দুজন। ৮৩টি কেন্দ্রের ৪৮৭টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে নয় জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, জামায়াতের মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদদৌলা, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের মো. দিদারুল মাওলা, গণঅধিকার পরিষদের এ টি এম পারভেজ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সিরাজুদ্দৌলা। এই আসনে বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৩৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫০ জন, নারী ২ লাখ ১৩ হাজার ১৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ১১ জন। ১২৪টি কেন্দ্রের ৭৮৮টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ছয় জন লড়ছেন। তারা হলেন- খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন, বিএনপির মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ইসলামী আন্দোলনের মতি উল্লাহ নূরী, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র সৈয়দ মোক্তার আহমেদ ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. আলাউদ্দিন। এখানে বিএনপির সঙ্গে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা। মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬২ হাজার ৮০৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪০ হাজার ৭২৩ জন এবং হিজড়া ভোটার একজন। ১৪২টি কেন্দ্রের ৯৩৯টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে আট জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জামায়াতের এ টি এম রেজাউল করিম, জাতীয় পার্টির (জেপি) মো. মেহেদী রাসেদ, ইসলামী আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল হারুন, ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান, কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া, এবি পার্টির মো. আবদুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দীন। এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা। মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৬ জন, নারী ১ লাখ ৫১ হাজার ২০৬ জন এবং হিজড়া ভোটার একজন। ৯২টি কেন্দ্রের ৬১৪টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম-৯ (পাঁচলাইশ-বাকলিয়া-কোতোয়ালি) আসনে ১০ জন নির্বাচন করছেন। তারা হলেন- জামায়াতের ডা. এ কে এম ফজলুল হক, বিএনপির মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আবদুল মোমেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুস শুক্কুর, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. শফি উদ্দিন কবির, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী ও গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ। এই আসনেও বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৩ হাজার ৯০৮ জন, নারী ২ লাখ ২৫ হাজার ৪৬ জন এবং হিজড়া ভোটার নয় জন। ১২১টি কেন্দ্রের ৭৬০টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-আকবরশাহ) আসনে নয় জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- জামায়াতের মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, বিএনপির সাঈদ আল নোমান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আসমা আকতার, জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আরমান আলী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. লিয়াকত আলী ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন। এই আসনে বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা। মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮০ জন, নারী ২ লাখ ৪২ হাজার ৬৩৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ২৯ জন। ১৩৯টি কেন্দ্রের ৯২১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ শফিউল আলম, জাতীয় পার্টির আবু তাহের, গণফোরামের উজ্জল ভৌমিক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) দীপা মজুমদার, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ আবু তাহের, গণঅধিকার পরিষদের মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. আজিজ মিয়া, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মো. নিজামুল হক আল কাদেরী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নুর উদ্দিন। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৫ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৩২, নারী ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৪৩ এবং হিজড়া ভোটার তিন জন। ১৪৩টি কেন্দ্রের ৮৯৩টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। এই আসনে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে আট প্রার্থী লড়ছেন। তারা হলেন- বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, এলডিপির এম. এয়াকুব আলী, ইসলামী আন্দোলনের এস এম বেলাল নুর, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী, স্বতন্ত্র মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫২, নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪২ এবং হিজড়া একজন। ১১৩টি কেন্দ্রের ৬৯১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই আসনেও বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম, জামায়াতের মাহমুদুল হাসান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুর রব চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রেজাউল মোস্তফা, এনডিএমের মোহাম্মদ এমরান ও গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌং। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৯৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬ হাজার ৯৭৯, নারী ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯৭৯ জন। ১১৮টি কেন্দ্রের ৭৬১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই আসনেও বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের লড়াই হবে বলছেন ভোটাররা।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে আট প্রার্থী লড়ছেন। তারা হলেন- এলডিপির ওমর ফারুক, বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের এইচএম ইলিয়াছ, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সোলাইমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী ও শফিকুল ইসলাম রাহী। আসনটিতে ভোটার ৩ লাখ ১৩ হাজার ৪৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬৩, নারী ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৭ জন এবং হিজড়া একজন। ১০০টি কেন্দ্রের ৫৭৫টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। এখানে বিএনপির সঙ্গে এলডিপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলছেন ভোটাররা।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে নির্ভার বিএনপি
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ এমদাদুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল আলম, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু নাছের ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়্যদ মুহাম্মদ হাসান। তবে প্রতীক বরাদ্দের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী মো. জুবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াতের প্রার্থী আবু নাছের। এই আসনে ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৮২ হাজার ৬০৭, নারী ২ লাখ ৭২ হাজার ১২১ জন এবং হিজড়া ভোটার একজন। ১৭৯টি কেন্দ্রের ১ হাজার ১৩টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। এই আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বিএনপি। কারণ জামায়াত জোট থেকে এনসিপিকে আসনটি ছেড়ে দিলেও ব্যালটে প্রতীক আছে দাঁড়িপাল্লা। এই কারণে মূলত বিএনপির প্রার্থী মাঠে এগিয়ে আছেন।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে দুশ্চিন্তায় বিএনপি
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে সাত জন লড়ছেন। তারা হলেন- জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবদুল মালেক, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহছানুল হক, স্বতন্ত্র মোহাম্মদ লেয়াকত আলী, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ রুহুল্লাহ। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ৯৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২০ হাজার ৩৮, নারী ২ লাখ ৯১ হাজার ৮৯১ জন এবং হিজড়া ভোটার পাঁচ জন। ১১২টি কেন্দ্রের ৭২০টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখানে বিএনপির গলার কাঁটা বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী লেয়াকত আলী। বিএনপির ভোট ভাগ হলে জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হতে পারেন, বলছেন ভোটাররা।
দুই আসনে বিএনপি-জামায়াতের সহজ সমীকরণ
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে চার জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের মো. শাহাজাহান মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দীন তালুকদার ও ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী। আসনটিতে ভোটার ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭১, নারী ১ লাখ ৬১ হাজার ১৭। ৯৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৭৩টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী গিয়াস কাদের চৌধুরী লড়ছেন। তার তুলনায় অন্যান্য দলের প্রার্থী জনসমর্থনের দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে। এজন্য আসনটিতে বিএনপি সহজ সমীকরণে আছে বলছেন ভোটাররা।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন ও ইসলামী আন্দোলনের শরীফুল আলম চৌধুরী। আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী আগের নির্বাচনগুলোতে জয়ী হয়েছেন। জামায়াতের তুলনায় এখানে বিএনপির প্রার্থী জনসমর্থনে পিছিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। ফলে সহজ সমীকরণে আছে জামায়াত। আসনটিতে ভোটার ৫ লাখ ৬২ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭০ হাজার ৯১৬, নারী ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪৩ জন। ১৫৭টি কেন্দ্রের ৯৪৩টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে এখনও নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চলছে। প্রচারণায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আমরাও প্রস্তুত আছি।’