জামায়াতের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের বন্দোবস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে জামায়াত মনোনীত সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জকসুর এজিএস মাসুদ রানা, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম, রাবি শিবিরের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম, জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, দেশের মানুষ আজ পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণ শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চায়। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ, দখলদার ও চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে।
জনসভায় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্যের শুরুতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচারের দাবিতে উপস্থিত জনতাকে সঙ্গে নিয়ে স্লোগান দেন।
তিনি আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাতক্ষীরার চারটি আসন জামায়াতকে উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাদিক কায়েম বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের বন্দোবস্ত হবে, যেখানে হিংসা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কোনো জায়গা থাকবে না। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ৫৪ বছরের মাফিয়া শাসন ও অনিয়মের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে শতাধিক নেতাকর্মী হারিয়েছে—তারা কিভাবে দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারবে? পারবে না।
শ্যামনগরকে উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ জনপদ উল্লেখ করে সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, এ এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, শ্যামনগরের মানুষের প্রধান দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও উপকূল সুরক্ষা নিশ্চিত করা। নির্বাচিত হলে উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবনকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর, রাস্তাঘাট সংস্কার, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করে শ্যামনগরকে একটি মডেল উপজেলায় পরিণত করা হবে। একইসঙ্গে সুন্দরবন রক্ষা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।