জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেছেন, সীমান্ত দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের যারা পার করে দিয়েছে, তারাই আজ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আনন্দ-উল্লাস করছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) নির্বাচনী এলাকার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা হাইস্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এসব ব্যক্তিরা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত এবং সেই চাঁদাবাজির একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়মিতভাবে দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। তিনি দাবি করেন, তাদের মাসিক টার্গেট দেওয়া হয়। অনেক সময় সেই লক্ষ্য পূরণ করতে না পেরে তারা এসে জানান যে আর পারছে না, কিন্তু দীর্ঘদিন দল করার কারণে সেখানেই থাকতে হয় এবং অন্যদের কাছেও চাঁদা আদায়ের চাপ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যেই নীরবে একটি বিপ্লব ঘটে গেছে। মানুষ প্রস্তুত হয়ে আছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিতে।” তার দাবি, দেশের ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি ও দখলবাজি থেকে মুক্তি চায়, সাধারণ মানুষ শান্তি চায়। এমনকি বিরোধী দলে থাকা অনেক কর্মীও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিতে আগ্রহী।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ভোটের দিন পর্যন্ত ঘরে ঘরে গিয়ে ১১ দলীয় জোটের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। প্রতিদিন আগের দিনের চেয়ে বেশি মানুষের কাছে যেতে হবে এবং আরও বেশি সময় মাঠে কাজ করতে হবে। তিনি ঘুম ও আরাম ত্যাগ করে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।
জনসভায় কুমিল্লা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেনসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা একটি সুন্দর ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জোটের নেতাকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।