বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (সাবেক এমপি) বলেছেন, ফুলকপি প্রতীকে ভোট দিলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। আগামীর দেশ হবে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ভোলা-৩ আসনের লালমোহন-তজুমুদ্দিনের ১১ দলীয় জোটের জামায়াত সমর্থিত ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈমের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো লোক চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা অন্যায় কাজে জড়িত নয়। বিগত ৫৪ বছরে অনেক দল ক্ষমতায় ছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে একটি দল তিনবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। তারা এখন আবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। ওই দল ক্ষমতায় এলে আবারো জুলুম ও চাঁদাবাজি ফিরে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নারী শ্রমজীবীদের আট ঘণ্টা কাজ করতে হবে না, তারা পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবে। ৬০ বছরের ওপরে যাদের বয়স তারা ফ্রি চিকিৎসা পাবে। পাশাপাশি ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা বিনা পয়সায় চিকিৎসা পাবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। এসব টাকা ফিরিয়ে এনে বেকারদের কর্মসংস্থান করা হবে বলেও জানান তিনি। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে যাকাত চালু করা হবে বলেও বক্তব্য দেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ফুলকপি প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। এ সময় তিনি নিজামুল হক নাঈমের হাতে ফুলকপি প্রতীক তুলে দিয়ে উপস্থিত জনতাকে ওই প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় ভোলা-৩ আসনের জামায়াতের আসন পরিচালক মাওলানা মো. আখতার উল্যাহ সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভোলা জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি কাজী মো. শাহে আলম।
জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন ভোলা-৩ আসনে জামায়াত সমর্থিত বিডিপির (ফুলকপি প্রতীক) সংসদ সদস্য প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিডিপির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, বরিশাল অঞ্চল কমিটির সদস্য এ. কে. এমন, ফখরুদ্দিন খান রাজি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জেলা আমীর মাষ্টার জাকির হোসেন, লালমোহন উপজেলা জামায়াতের আমির আবদুল হক।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন-মনপুরা আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট পারভেজ হোসেন, ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল হক, জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক এম এ জাহের, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।