নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই দলের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার মাখনা কোমলগোটা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ও নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়নে মাখনা কোমলগোটা এলাকার জামায়াত কর্মী শহীদ মোল্লা বাড়িতে দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আ স ম সায়েমসহ কর্মী সমর্থকরা অপেক্ষা করছিল।
এ সময় গোপাই গ্রামের বিএনপির কর্মী সমর্থকরা তাদের খাবারের ভিডিও ধারণ করছিলেন। ছবি উঠানো নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ হলে দুপক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়নের বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের ঘরবন্দি করে রাখলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতে আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম বলেন, গণসংযোগ শেষে বিকেলে প্রার্থী অ্যাডভোকেট আ.স.ম সায়েম ভাই একটি বাড়িতে বিশ্রাম করছিলেন। এ সময় বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পাইপ নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা করে। হামলায় আমাদের ৮ জন কর্মী আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং জামায়াতের লোকেরা হামলা করে আমাদের দুজনকে আহত করাসহ মোবাইল ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমাদের ছেলেদের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকাটি প্রত্যন্ত। কিছুদিন আগে ধানের শীষ প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু ওই এলাকায় প্রচারণায় গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতা জালাল খাবারের আয়োজন করেছিল। কিন্তু জামায়াতের লোকজন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় ম্যাজিস্ট্রেট আসে। প্রায় ২০০ লোক খেতে না পারায় খাবারগুলো নষ্ট হয়ে যায়। জামায়াতের লোকজন আজ খাবারের আয়োজন করে। সেখানে আমাদের ছেলেরা গিয়ে খাবারের ভিডিও করার সময় জামায়াতের লোকজন মারধর করে এবং মোবাইল ভাঙচুর করে। এতে দুজন আহত হয়েছে।
নওগাঁ সদর থানার ওসি নিয়ামুল হক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। যে যার মতো ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।