আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী এবং এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এক নির্বাচনী জনসভায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের কঠোর দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলেছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড়ে আয়োজিত ওই সভায় তিনি ঘোষণা করেন, একজন ভালো নেতা যদি তার নিজস্ব নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তবে তিনি কখনো প্রকৃত নেতা হতে পারেন না। তিনি উপস্থিত সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা গত কয়েক দিনের মামলাবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের সাহসের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। সারজিস আলম আরও বলেন, ভোটারদের উচিত প্রার্থীদের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড যাচাই করা এবং যারা অপকর্মে লিপ্ত, তাদের ভোট না দেওয়া। এমনকি নিজের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও যদি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদেরও ভোট না দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
বক্তব্যের একপর্যায়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে সারজিস আলম বলেন, ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মন্দির ও পূজার মণ্ডপ পাহারা দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করেছে। অথচ একটি বড় দলের নেতাকর্মীরা প্রতিমা বিসর্জনের পুকুরসহ সাধারণ মানুষের জায়গা-জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের উৎসবে মেতেছে। তিনি এই দখলবাজদের ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের নতুন বিল্ডিং চালুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বিএনপির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত ও এনসিপিসহ ছোট ছোট দলগুলো স্বাস্থ্যসেবা তহবিলে আর্থিক সহায়তা দিলেও বিএনপির মতো বড় দল কোনো টাকা দিতে পারেনি। যারা নির্বাচনের সময় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে, তারা কেন সেবার কাজে ৫ লাখ টাকা দিতে পারে না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন পরিকল্পনার প্রতি ইঙ্গিত করে সারজিস আলম বলেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা শুনে সাধারণ মানুষ আশান্বিত হলেও মাঠপর্যায়ে তার নেতাকর্মীরা নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।
তিনি শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে খুনের ঘটনা এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সারা দেশে ২০০ জন নেতাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তারেক রহমানকে তার কর্মীদের থামানোর আহ্বান জানান। সারজিস আলম সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে আর কতজনকে হত্যার পরিকল্পনা রয়েছে তা জাতির কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার। পরিশেষে তিনি নিজের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে, তারা শোষক বা শাসক হতে নয়, বরং সাধারণ মানুষের সেবক হতে রাজনীতিতে এসেছেন।