Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ধীরে ধীরে উত্তাপ বাড়ছে ঢাকা-১৬ আসনে। মিরপুরের অলিগলি, চা দোকান, মুদি দোকান কিংবা বিকালের হাঁটার পথ- সর্বত্র আলোচনার বিষয় একটাই, এবারের ভোটে কী হতে যাচ্ছে। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে আর শেষ পর্যন্ত কাকে বিশ্বাস করবেন এলাকার মানুষ-এসব প্রশ্ন ঘুরছে সাধারণ ভোটারদের মুখে মুখে।

সরেজমিন মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, পল্লবীসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বড় বড় ব্যানারে ছেয়ে গেছে অলিগলি। সবচেয়ে বেশি ব্যানার আর পোস্টার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর। এ আসনে আরও নয়জন প্রার্থী থাকলেও তাদের প্রচার-প্রচারণা তুলনামূলক কম।

আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ঢাকা মহানগর (উত্তর) বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন, যিনি শহীদ বীরউত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ। দুজনের পথ ও পরিচিতি ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একটাই-ভোটারদের আস্থা অর্জন। আমিনুল হক এ এলাকার মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক হিসেবে খেলাধুলার মাঠ থেকেই তাঁর পরিচিতি। পরে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে নিয়মিত এলাকায় সময় কাটানোয় তাঁর নাম অনেকের কাছেই চেনা।

অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী আবদুল বাতেন তুলনামূলকভাবে নতুন মুখ। তিনি এখনো নিজেকে পরিচিত করে তোলার পর্যায়ে আছেন। পরিচিতির ঘাটতি পূরণে সরাসরি যোগাযোগকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। মিরপুর-১১ নম্বর সেকশন ১১ এর ডি ব্লকে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, একদল যুবক বসে আছে। তারা জানান, স্থানীয় সমস্যা, মাদক, তরুণদের জন্য খেলাধুলার জায়গা, বয়স্কদের হাঁটার স্থান এসব বিষয়ে আমিনুল শুরু থেকেই কাজ করছেন। স্থানীয় কোনো সমস্যা হলে তিনি ছুটে যান। অন্যান্য প্রার্থীর চেয়ে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এলাকায় বেশি। তাই এবার তাঁর জেতার সম্ভাবনা বেশি বলে দাবি তাঁদের। পাশেই দাঁড়াপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনি অফিস। সেখানে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। কেউ কেউ লিফলেট হাতে টিম হয়ে প্রচারে যাচ্ছেন, আর কেউ মাইকিং শেষে ফিরেছেন।

আবদুল কাদের নামে জামায়াতের এক কর্মী বলেন, টানা ১৬ বছর আমরা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ভোটের মাঠে সরাসরি কাজ করতে পারিনি। অনেক দিন পর আমরা স্বাধীনভাবে নির্বাচনের মাঠে কাজ করতে পারছি। আমাদের প্রার্থী এলাকায় একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। এ আসনে জামায়াত জিতবে বলে আমরা আশাবাদী।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল বাতেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। তারা পরিবর্তন চাই। আমার আসনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদকের কারবার অনেক বেশি। তা ছাড়া এ আসনে ৬০ হাজারের বেশি অবাঙালি আছে, যারা মানবেতরভাবে বসবাস করে। আমরা সুযোগ পেলে এসব সমস্যার প্রকৃত সমাধান করার চেষ্টা করব। মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান- স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলব।

বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক বলেন, আমি এ এলাকার সন্তান। তবু প্রতিদিন ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। এখানকার সমস্যাগুলো আমার নখদর্পণে। আমি নির্বাচিত হলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করব। মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স আমি আগেই ঘোষণা করেছি। কিশোর-তরুণদের খেলার জায়গা নেই। নির্বাচিত হলে আমি এসব নিয়ে কাজ করব।

ঢাকা-১৬ আসনে কে জিতবে এমন প্রশ্নে মোহাম্মদ আলী নামে এক দোকানদার বলেন, জামায়াতের যিনি প্রার্থী আগে থেকে চিনতাম না। এখন চিনি। তবে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ভাই অনেক আগে থেকেই পরিচিত। আমার দোকানে তাঁরা দুজনেই এসেছেন। হাত মিলিয়েছেন। দুজনকেই ভালো লোক মনে হয়েছে। আমি এখানকার ভোটার না। তবে দোকানে আসা খদ্দেরের আলাপ ভালো করে শুনি। আমার মনে হয়, ধানের শীষের প্রার্থীই জিতবেন।

এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মো. সুলতান আহম্মেদ সেলিম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মাদ তৌহিদুজ্জামান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. রাশিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির-বিজেপি মো. নাজমুল হক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মো. মামুন হোসেন ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) মো. আবদুল কাদের জিলানী।