Image description

প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বদলে দিচ্ছেন প্রচারণার প্রচলিত ধারা। নির্বাচনী জনসভাকে রূপ দিচ্ছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথোপকথনে। মাইক হাতে বক্তৃতার বদলে কোথাও কোথাও করছেন সঞ্চালনা। সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছেন বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো। প্রচারণায় রীতিমতো দেখাচ্ছেন ক্যারিশমা।  

প্রথার বাইরে গিয়ে সাধারণ ভোটারকে মঞ্চে ডেকে নিচ্ছেন, আবার কখনো নিজেই মঞ্চ থেকে মেনে মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন। মানুষের চাহিদার কথা শুনছেন, তুলে ধরছেন নিজের পরিকল্পনাও। গত ১০ দিনে দুই ডজন জনসভা ও পথসভায় বক্তৃতা করেছেন তারেক রহমান। 

গভীর রাতেও যোগ দিয়েছেন জনসভায়। তার এই ক্লান্তিহীন ছুটে চলার একমাত্র প্রেরণা নেতাকর্মীরা। যেখানেই তিনি গিয়েছেন নেমেছে জনস্রোত। সিলেট থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও পেয়েছেন ভালোবাসা। গাড়িবহর থামিয়ে শিশুদের এবং সাধারণ মানুষদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মৌলভীবাজারের আইনপুরের জনসভায় নিজের চেয়ারে বসিয়েছেন দলের এক সাধারণ কর্মীকে। জনসভায় প্রার্থীদের হাতে তুলে দেন ধানের শীষ। বিএনপি’র চেয়ারম্যানের ভিন্নধর্মী প্রচারণায় উজ্জীবিত দলের নেতাকর্মীরা। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে ভোর রাত পর্যন্ত প্রচারণায় কাটিয়েছেন। পথে পথে মানুষের স্রোত আর নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তারেক রহমান। মানুষের এই ভালোবাসা থেকে শক্তি নিয়েই তিনি পথ চলছেন।    

নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি তাদের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে কী কী করবেন তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন দলের চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারেজ তৈরি, খাল খনন কর্মসূচি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, হাসপাতাল তৈরি, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি।   

উত্তরাঞ্চল সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার বগুড়া থেকে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও রংপুর ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনী সমাবেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারেক রহমান। শহরের কাছাকাছি গাড়ি থামিয়ে শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ছবি তুলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এর আগে ২৭শে জানুয়ারি ময়মনসিংহে নির্বাচনী জনসভা শেষে গাজীপুরের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। ভালুকার সিডস্টোর এলাকায় গাড়িবহর থামিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে চান এক কিশোরী। তার ডাকে সাড়া দিয়ে তারেক রহমান নিজেই বাসের দরজা খুলে দেন এবং মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনেন। এ সময় কিশোরীটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি ছবি তারেক রহমানকে উপহার দেন। তারেক রহমান ছবিটি সাদরে গ্রহণ করে কিশোরীকে ধন্যবাদ জানান। ওদিকে মৌলভীবাজারের আইনপুরের জনসভায় নিজের চেয়ারে বসতে দেন শফিকুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধকর্মীকে। মৌলভীবাজার জেলা শহরের বড়হাট এলাকায় তার বাড়ি। বয়স ৬৯ বছর। বিরল এই সম্মান পেয়ে আপ্লুত হন দলের এই কর্মী। 

গত ২২শে জানুয়ারি সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী জনসভা করেন। এরপর ২৫শে জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে প্রচারাভিযান শুরু করেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান। সেখান থেকে তিনি ফেনী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সোয়াগাজী, দাউদকান্দি, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী জনসভা করার পর উত্তরাঞ্চল সফর শুরু করেন ২৯শে জানুয়ারি থেকে। তিন দিনের এই সফরে তারেক রহমান রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল নির্বাচনী জনসভা শেষে ঢাকায় ফেরেন শনিবার। তার এই সফরে উজ্জীবিত নেতাকর্মী। অন্যদিকে আজ খুলনা ও যশোরে দু’টি  নির্বাচনী প্রচারাভিযানে যাচ্ছেন তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী সকাল ১১টায় বিএনপি চেয়ারম্যান হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে খুলনা রওনা দেবেন। সেখানে হাজি মহসিন কলেজ সংলগ্ন প্রভাতি স্কুল মাঠে দুপুর ১২টায় সমাবেশে যোগ দেবেন। এরপর দুপুর ১টায় খুলনায় থেকে হেলিকপ্টারে যশোরে রওনা হবেন। সেখানে ১টা ৪০ মিনিটে নতুন উপশহরে বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। পরে ২টা ৪০ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

ওদিকে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে প্রতিটি জনসভায় বিপুল নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে নির্বাচনী বড় শোডাউন হচ্ছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সাধারণ মানুষও। ঘরে থেকে বেরিয়ে আসছেন সাধারণ মানুষ। অনেককেই বাড়ির বারান্দা এবং জানালা দিয়েও তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তার এই সফরে দলীয় কোন্দলও নিরসন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিএনপি’র প্রতি নতুন আস্থা ও আগ্রহ তৈরি করেছে। জনসভা বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের তৎপরতা কয়েক গুণ বেড়েছে। পাড়ায় পাড়ায় উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ জোরদার করা হয়েছে। তার জনসভা শেষে নির্বাচনী প্রচারণার নেতাকর্মীদের সংখ্যাও আগের চেয়ে দিগুণ হয়েছে।

তারেক রহমান সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগান সংবলিত দলীয় বাসে করে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। এই বাস ঘিরেও উৎসুক মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে পথে পথে তিনি জনতার অভিবাদন গ্রহণ করেন। হাত নেড়ে জনতার অভিবাদন ও শুভেচ্ছার জবাব দেন। কয়েকটি নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান পত্নী ডা.  জুবায়দা রহমানও তার সফরসঙ্গী হয়েছেন। কোথাও রাজনৈতিক বক্তব্য না দিলেও কৃতী এই চিকিৎসকের উপস্থিতি নেতাকর্মীদের উজ্জীবীত করছে। 

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী সফরে অবশ্যই নেতাকর্মীরা আরও বেশি উজ্জীবিত হচ্ছে। আর আমার নির্বাচনী প্রচারণার এখন হাজার হাজার মানুষ। এতেই প্রমাণিত হয় যে, নেতাকর্মীরা কতো বেশি উজ্জীবিত হয়েছে। 

অন্যদিকে তারেক রহমানের এসব জনসভা ঘিরে উজ্জীবিত ছিল নেতা-কর্মীরা। যেসব জেলায় তিনি সফর করেছেন সেখানকার সংসদীয় আসনগুলোর লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তার এই সফর শুধু দলের সাংগঠনিক শক্তি সংহত হয়নি বরং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিএনপি’র প্রতি নতুন আস্থা তৈরি করেছে। তার বক্তব্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার আধুনিক রূপরেখা তরুণ ভোটারদের মধ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ তারেক রহমানের এই স্লোগান সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে মনে করেছেন তারা। 

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণার জনসভার মধ্যদিয়ে নির্বাচনে ভোটের হিসাব-নিকাশ ব্যাপকভাবে পাল্টে যাবে। সারা দেশে শুধু ধানের শীষের জোয়ার বইছে।