Image description

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক দাবি কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

মাহদী আমিন বলেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে নারীদের উদ্দেশে যে নোংরা জঘন্য ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে দেশব্যাপী আলোচনা চলছে, সেটি সঠিক হলে এর মাধ্যমে পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার প্রচেষ্টা বলে প্রতিয়মান। তিনি তার পোস্টে ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে যা লিখেছেন, তা যদি সত্যি হয় এবং একটি রাজনৈতিক দলের বিশ্বাস হয়ে থাকে, তবে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

এর আগেও আল জাজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নারীদের ক্ষমতা প্রসঙ্গে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগেও কিন্তু আমরা দেখেছি এই দলের (জামায়াত) একজন নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বোনদের উদ্দেশে ঠিক একইভাবে শব্দ ব্যবহার করেছেন। আমরা দেখেছি এই দলের প্রধান স্বয়ং প্রকাশ্যে নারীদের জন্য কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার মতন পশ্চাৎপদ বক্তব্য দিয়েছেন। যে দলটি মুখে মুখে ইনসাফ কায়েমের কথা বলে বেড়ায়, কিন্তু একটি আসনেও তারা সংসদ সদস্য হিসেবে কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী অথচ একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীও নেই। এই বিষয়টি নিশ্চয়ই নারীদের প্রতি ওনাদের হীন মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত নেতারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে এই দীর্ঘ সময় তারা কেন জাতির সামনে সেটি উন্মোচন করেননি এবং প্রায় ১২ ঘণ্টা পরে কেন জিডি করতে হলো- যখন সারা দেশে মানুষ সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। এই বিলম্বের আগেও কি কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে? তাছাড়া ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সে অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার দাবিটাই বা কতটা বিশ্বাসযোগ্য? এই প্রশ্নগুলো জনমনে ঘুরছে। মানুষ প্রশ্নগুলোর উত্তর যৌক্তিকভাবে জানতে চান। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা সর্বদা নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সম্মান ও সম অধিকারের পক্ষে। এই ধরনের ভাষা ও মানসিকতা কোনো সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি নারী বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। জামায়াত আমিরের এই ফেসবুক পোস্ট যদি সত্যি হয়ে থাকে, আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং ধিক্কার জানাই।

মাহদী আমিন বলেন, এর আগেও জামায়াতের নেতারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন তাদের দলের প্রধান পদে নারী কখনোই আসতে পারবেন না। অথচ তাদের নারীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচনী আচরণ নীতির লঙ্ঘন ঘটিয়ে এনআইডি কার্ড এবং বিকাশের নম্বর সংগ্রহ করেছেন। এটা কী ধরনের ইনসাফ? আমরা আরও দেখেছি এই দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যুক্ত থাকার কারণে জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু নারী নেত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, তারা অবমাননার শিকার হয়েছেন। অনেকেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। যারা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছেন তারাও অনেকেই স্বীকার করেছেন যে, দলটির কারণে তারা নানাভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এমনকি নারী প্রার্থীদের পোশাক পরিচ্ছেদ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। যা চরম রুচিহীনতা ও নারী বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে, আমাদের যারা নারী প্রার্থী রয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় আমাদের যেসব মা এবং বোনেরা রয়েছেন, তাদেরকেও অনলাইন এবং অফলাইনে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী প্রমুখ।