ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, আমরা বহু নির্বাচনে বহু লোকের উন্নয়নের ফুলঝুরি শুনেছি। নতুন করে আর ধোঁকায় পড়ে দেশটাকে ধ্বংস করতে চাই না।
চরমোনাই পীর বলেন, আমরা কি দুর্নীতির মধ্যেই নিয়োজিত থাকব, নাকি পরিত্রাণ দরকার। দুর্নীতি থেকে বাঁচতে দল একটাই, সেটি হলো ইসলামী আন্দোলন। তার প্রতীক হলো হাতপাখা।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ মাঠে গাজীপুর-১ আসনে দলের প্রার্থী জি এম রুহুল আমীনের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। রেজাউল করীম বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ গড়ার একটি সুন্দর সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ যদি আমরা কাজে লাগাতে না পারি, তাহলে আমাদের আফসোস করতে হবে।
চরমোনাই পীর বলেন, বাংলাদেশে বড় দুটি জোট নির্বাচন করছে, একটি হলো বিএনপি জোট; আরেকটি জামায়াত জোট। বিএনপি আগে যা বলত, এখনো তাই বলছে। আর জামায়াতের নেতৃত্বে যে জোট হয়েছে, তারা পরিষ্কার করে বলেছে—শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না। তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ৫৪ বছর ধরে যে নীতি-আদর্শে চলছিল; তাতে এ দেশের মানুষ যা চেয়েছিল তা পায়নি। এ দেশ স্বাধীন করতে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছিল, পঙ্গু হয়েছিল। তাদের মূল তিনটি স্লোগান ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা; কিন্তু যারা দেশ পরিচালনা করেছে তারা সেগুলোর একটিও বাস্তবায়ন করেনি।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা রেজাউল করিম আবরার, কোনাবাড়ী থানার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদসহ গাজীপুর মহানগর ও জেলার নেতারা।
এদিন বিকেলে কালীগঞ্জের জামালপুর আরএম বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন চরমোনাই পীর। সেখানে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়। দেশ গড়তে চাই ভালো নেতা ও ভালো নীতি। ভালো নেতৃত্ব ছাড়া জাতির মুক্তি নেই। নীতি-আদর্শে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আন্দোলন কাজ করে যাচ্ছে।
গাজীপুর-৫ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আব্রাম, দপ্তর সম্পাদক লোকমান হোসেন জাফরী, মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সহসভাপতি হারুন অর রশিদ প্রমুখ।