Image description
 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মনে রাখবেন যে মায়ের দামাল সন্তানরা চব্বিশে জগদ্দল পাথর হিমালয়ের সমান ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে, সেই সন্তানরা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা এখনো জেগে আছে। আগামীতে জনগণের ভোট নিয়ে কেউ যদি অন্য কোনো চিন্তা করেন এই যুবকরা সিংহ হয়ে গর্জন করবে। সিংহের থাবা সামাল দিতে পারবেন না। সুতরাং নিজের ছাড়া অন্য কারও ভোটের দিকে হাত বাড়াবেন না।

তিনি বলেন, এই স্লোগান অচল— ‘আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব’— না সেদিন এখন আর নেই। এখন আমারটা আমি দেব, তোমারটা তুমি দাও। আমার যারে পছন্দ আমি দেব, তোমার যারে পছন্দ তারে দাও। এর নাম হচ্ছে ডেমোক্রেসি। এর নাম হচ্ছে এসেন্টস অব ডেমোক্রেসি— গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লা লাকসাম স্টেডিয়ামে নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এ সময় তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে যারা জুলাইয়ের চেতনা ও সংস্কারকে মানে না, তাদের দিয়ে কখনোই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে ফ্যাসিবাদবিরোধী দলকে বেছে নিতে হবে।

 

বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের কোনো মামা-খালুর দেশ নেই, কোনো বেগম পাড়া নেই। আমাদের আছে একটাই পরিচয়, গর্বের বাংলাদেশ।

 

ঘরে ঘরে এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ে হাত। এই দ্বিচারিতা জনগণ আর মেনে নেবে না। আপনারা মা-বোনদের গায়ে চাবুক মারতে পারেন, কিন্তু মানুষের মনের ওপর কোনো চাবুক চলে না।

জামায়াতের আমির বলেন, এই দেশটা সবার, শুধু আমার একার নয়। সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন জায়গায় যারা আছেন, আমরা বিশ্বাস করি দেশ আমাদের সবার। সবার দায় আছে। সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই আমরা একটি সভ্য দেশ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। এই দেশকে এখনো সভ্য বলা যাবে না। যে দেশের পথে ঘাটে সর্বত্র চাঁদাবাজি হয় এটা কখনও সভ্য দেশ হতে পারে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের অঙ্গীকার আমরা চাঁদাবাজদেরকে সাহায্য করব। আপনারা হয়তো বলবেন— আশ্চর্য আপনারা কি চাঁদাবাজদের আরও চাঁদা দিয়ে সহযোগিতা করবেন! না, আমরা তাদের আহ্বান করব তোমরাও আমাদের সন্তান, চাঁদাবাজি ছেড়ে দাও। তোমাদের যদি খাদ্যের অভাব হয় আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন আমরা তা ভাগাভাগি করে খাব। তবুও হারামের দিকে হাত বাড়াইও না। চাঁদা নিয়ে মানুষকে কষ্ট দিও না। রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে শিল্পপতি সবার ঘুম হারাম এদের কারণে। মানুষের অভিশাপের পাত্র হয়ে গেছ। তওবা করে এখান থেকে বের হয়ে আসো, তোমাদের বুকে টেনে নেব। এরপর তোমাদের আমরা শিক্ষিত-প্রশিক্ষিত করে হাতে কাজ তুলে দেব ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে যুবকদের আমরা অসম্মান করতে চাই না। আমাদের যুবকরা যারা লড়াই করে জীবন দিতে জানে অধিকারের জন্য, তারা বেকার ভাতার জন্য লড়াই করেনি। তারা লড়াই করেছে তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার জন্য। আমরা তোমাদের কথা দিচ্ছি তোমাদের হাতকে আমরা এই দেশ গড়ার কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ। সেই দিন তোমাদের হাতে মর্যাদার কাজ আমরা তুলে দেব। তখন সবাই মাথা উঁচু করে বুক ফুলিয়ে বলবা— আমিই বাংলাদেশ। আমাকে এই বাংলাদেশ অনেক কিছুই দিয়েছে এখন আমার প্রিয় দেশকে আমি দিতে চাই। আমি বেকার ভাতা খেতে চাই না।

শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশটা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার। আমরা মিলেমিশে এই দেশটাকে ফুলের বাগানের মতো গড়ব ইনশাআল্লাহ। সব ধর্মের মানুষ তার সব প্রাপ্য অধিকার পাবে, অধিকারের জন্য তার লড়াই করার দরকার হবে না। আমরা সমাজে সুবিচার কায়েম করব। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করবে। সরকার দেখবে না তিনি কোন দলের কিংবা কোন ধর্মের। দেখবে তিনি যোগ্য কি না আর তার মাঝে দেশপ্রেম আছে কি না। এনাফ। এনাফ ইজ এনাফ। আর কিছু লাগবে না। তিনি কাজ পাবেন, সম্মানের সঙ্গে জীবন-যাপন করবেন।

জনসমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, এখন সারা বাংলাদেশের সর্বস্তরের নাগরিক ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার প্রতিনিধিদের, শাপলা কলির প্রতিনিধিদের, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ডা. শফিকুর রহমান ভাইকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর জন্য মুখিয়ে আছে।

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. সৈয়দ একেএম সরোয়ার উদ্দীন সিদ্দীকির সভাপতিত্বে জনসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লার-৪ আসনের এনসিপি মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ১১ দলীয় জোটের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।