নওগাঁয় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির ভোটকে ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, দাঁড়িপাল্লাকে জয়ী করা প্রত্যেক মুসলিমের নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব এবং কিয়ামতের দিনে নিজেকে জবাবদিহি করতে পারবেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নওগাঁ পৌরসভার আরজি-নওগাঁ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লায় যদি ভোট না দেন, কিয়ামতের দিন কীভাবে আল্লাহর কাছে জবাব দেবেন? শেখ মুজিব কাউকে জান্নাতে নিতে পারবেন না। জান্নাতে যাওয়া একমাত্র আল্লাহর হাতে। অন্তত কবরে গিয়ে বলতে পারবেন আল্লাহর দ্বীন কায়েমের জন্য আমি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছি।’
ভোটকে একটি আমানত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি ভোট পেয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করে না, সে আমানতের খেয়ানতকারী। দাঁড়িপাল্লা ন্যায়ের প্রতীক। আমরা সবসময় ন্যায় ও সততার পক্ষে। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা গদিতে বসার জন্য নয়, দেশের সেবক হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।’
তিনি জামায়াতে ইসলামের আমিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘ভোটের পর যদি জামায়াতের কেউ আমানতের খেয়ানত করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে— এমন কথা অন্য কোনো দলের নেতা বলেননি।’
নওগাঁর প্রার্থীদের প্রসঙ্গে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘যে দ্বীন কায়েমের কথা বলে, তাকে ভোট দেবেন। আর যে দ্বীন কায়েম করতে জানে না, তাকে ভোট দিলে আপনি আমানতের খেয়ানত করছেন।’
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আগের সময়ের জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বিএনপি আর বর্তমান বিএনপি এক নয়। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে চোরাকারবারি, চাঁদাবাজ ও অসৎ ব্যক্তিদের হাতে ক্ষমতা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেউ ভোট চুরি করার চেষ্টা করে, তাকে প্রতিহত করতে হবে। নিজে ভোট চুরি করা যাবে না, কাউকেও করতে দেয়া যাবে না।’
ভারতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।’ মুসলিম পরিচয়ের কারণে ভারতে গিয়ে ক্রিকেট খেলতে না পারার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা এ বিষয়ে কথা বলেন না, তাদের ভোট দেওয়া নাফরমানির অংশ।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আ স ম সায়েম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মহিউদ্দিন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিমসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
এর আগে শাহরিয়ার কবিরসহ জামায়াতের নেতারা ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুব বিভাগের আয়োজনে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।