Image description
 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৯৮১। এর মধ্যে ১০৯ প্রার্থী হলফনামায় বয়স উল্লেখ করেননি। বাকি বৈধ এক হাজার ৮৭২ প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে সমকাল দেখেছে, তাদের মধ্যে বয়সে নবীন ও তরুণ, অর্থাৎ ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রার্থী ৬৩৭ জন। যা মোট প্রার্থীর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি, ৩৪ দশমিক ০৩ শতাংশ। এক হাজার ২৩৫ প্রার্থী মধ্যবয়সী ও প্রবীণ। এই হার মোট প্রার্থীর প্রায় ৬৬ শতাংশ। 

গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছাড়াও গণঅধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও আমজনতার দলের মতো নতুন দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণই এবার তরুণ প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ার মূল কারণ।

 
 

সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ২০০৮ সালের নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীর অংশগ্রহণ ছিল ২৪ শতাংশের মতো, যা মোট প্রার্থীর এক-চতুর্থাংশেরও কম। অর্থাৎ এবারের নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১০ শতাংশ। এ ছাড়া এবার তরুণ ভোটারের সংখ্যা ২০০৮ সালের চেয়ে চার কোটিরও বেশি। এ কারণে তরুণ প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকরা।

তপশিল ঘোষণার পর থেকে গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংসদের ৩০০ আসনে ভোটে লড়তে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল দুই হাজার ৫৮০টি। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ৮৫৫ জনে, বাতিল হয় ৭২৫টি মনোনয়নপত্র। 

 

পরে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচনের পুনঃতপশিল হওয়ায় বাকি ২৯৮ আসনের প্রার্থীর আপিল ও শুনানি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কার্যক্রম চালায় নির্বাচন কমিশন। ২১ জানুয়ারি সব প্রক্রিয়া শেষে ২৯৮ আসনের বৈধ এক হাজার ৯৮১ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। 

সমকালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৫ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বয়সী প্রার্থী আছেন ২০৯ জন। যা বৈধ এক হাজার ৮৭২ প্রার্থীর ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর ৩৬ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে আছেন ৪২৮ জন, ২২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর ৪৬ থেকে ৮৮ বছর পর্যন্ত বয়সী আছেন এক হাজার ২৩৫ জন, ৬৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ। 
বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, তারুণ্যনির্ভর দলগুলোর প্রার্থীর বেশির ভাগই নবীন ও তরুণ। তবে বড় দলগুলোর মধ্যে বিএনপি পুরোনো পথেই হেঁটেছে। অভিজ্ঞ ও দক্ষতা বিবেচনায় নিতে গিয়ে তারা বেশি সংখ্যায় মধ্যবয়সী ও প্রবীণ প্রার্থী বেছে নিয়েছে। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রায় অর্ধশত প্রার্থী বাদে বাকিরা মধ্যবয়সী ও প্রবীণ। 

কোন দলের কী অবস্থা
এবারের নির্বাচনে ৩২ জন প্রার্থী দিয়েছে এনসিপি। এর মধ্যে ৩১ জন, অর্থাৎ ৯৬ দশমিক ৮৮ শতাংশই তরুণ। দলটির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হচ্ছেন নোয়াখালী-৫ আসনের আব্দুল হান্নান মাসুদ। তাঁর বয়স ২৫ বছর ১১ মাস। তরুণ প্রার্থীর মধ্যে আরও রয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ (২৭), পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলম (২৭), শরীয়তপুর-১ আসনে আবদুর রহমান (২৭), ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থী নাহিদ ইসলাম (২৭), রংপুর- ৪ আসনে আখতার হোসেন (২৮) ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এস এম মোস্তাফিজ (২৮)। এই দলের একমাত্র প্রবীণ প্রার্থী ৬৪ বছর ৭ মাস বয়সী নাটোর-৩ আসনের অধ্যাপক এস এম জার্জিস কাদির। 

গণঅধিকার পরিষদের (জিওবি) ৯০ প্রার্থীর মধ্যে ৭১ জনই তরুণ। যা দলীয় প্রার্থী সংখ্যার ৭৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দলটির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হচ্ছেন ঢাকা-৩ আসনের মো. সাজ্জাদ (২৬)। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-১ আসনে বিন ইয়ামিন মোল্লা (২৮), পটুয়াখালী-১ আসনে শহিদুল ইসলাম ফাহিম (২৮) ও দিনাজপুর-১ আসনে রেজওয়ানুল ইসলাম (২৯)। 

বিএনপির ২৮৮ প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জনের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে, যা মোট প্রার্থীর ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। দলটির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী যশোর-৪ আসনের রাশেদ খান (২৮)। এ ছাড়া তরুণদের মধ্যে শেরপুর-১ আসনে সানসিলা জেবরিন (৩২), সাতক্ষীরা-৪ আসনে মো. মনিরুজ্জামান (৩৭), গাজীপুর-২ আসনে এম মঞ্জুরুল ইসলাম রনি (৪১), ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম তুলি (৪২), ময়মনসিংহ-৯ আসনে ইয়াসের খান (৪৩), সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুল (৪৪) ও ঢাকা-১৬ আসনে আমিনুল হক (৪৫) উল্লেখযোগ্য। 

জামায়াতের ২২৪ প্রার্থীর মধ্যে ৪৯ জন তরুণ, যা দলটির মোট প্রার্থীর ২১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। দলটির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী শেরপুর-২ আসনের গোলাম কিবরিয়া (৩১)। এ ছাড়া রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে মোহাম্মদ মহসিন (৩৪), গাজীপুর-৪ আসনে সালাহ উদ্দিন (৩৮), চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মাসুদ পারভেজ (৪০), ময়মনসিংহ-৪ আসনে মোহাম্মদ কামরুল আহসান (৪০), ঢাকা-১৪ আসনে মীর আহমেদ বিন কাসেম (৪১), ঢাকা-১৭ আসনে স ম খালিদুজ্জামান (৪১), কিশোরগঞ্জ-২ আসনে শফিকুল ইসলাম (৪১), বাগেরহাট-২ আসনে মঞ্জুরুল হক রাহাত (৪১), ময়মনসিংহ-১ আসনে মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান (৪১), ময়মনসিংহ-২ আসনে আনোয়ার হাসান (৪২), নাটোর-১ আসনে আবুল কালাম আজাদ (৪২), রাজশাহী-৫ আসনে মনজুর রহমান (৪২), নেত্রকোনা-৪ আসনে মো. আল হেলাল (৪৩), সুনামগঞ্জ-২ আসনে ইয়াসীন খান (৪৩), ঢাকা-৬ আসনে আব্দুল মান্নান (৪৪), সুনামগঞ্জ-২ আসনে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শিশির মনির (৪৪), পাবনা-১ আসনে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (৪৪), গাজীপুর-৫ আসনে খায়রুল হাসান (৪৫), মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে এ কে এম ফখরুদ্দীন রাজি (৪৫), গাজীপুর-২ আসনে মুহাম্মদ হোসেন আলী (৪৫) ও নাটোর-৪ আসনে আব্দুল হাকিম (৪৫) উল্লেখযোগ্য। 

সংখ্যার বিচারে অবশ্য তরুণ ও যুবক বয়সী প্রার্থী বেশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। দলটির ২৫৩ প্রার্থীর মধ্যে ৯৭ জনের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। এই দলের সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী পটুয়াখালী-৩ আসনের মুহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক (২৮)। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির ১৯২ প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৫৪ জন এই বয়সী প্রার্থী রয়েছেন। 

 

 

 

অন্যান্য দলের সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থীর মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন ইনসানিয়াত বিপ্লবের ঢাকা-১৩ আসনে ফাতেমা আক্তার মুনিয়া (২৫) ও ময়মনসিংহ-৫ আসনে তাহমিনা আক্তার (২৫); আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) ঝিনাইদহ-৩ আসনে মুজাহিদুল ইসলাম (২৬) ও যশোর-২ আসনে রিপন মাহমুদ (২৮), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) যশোর-৩ আসনে রাশেদ খান (২৮) ও গাইবান্ধা-১ আসনে রমজান আলী (২৯), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নাটোর-৩ আসনে টিংকু সরদার (২৯), আমজনতার দলের সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে আসাদুল হক (২৮), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-মার্কসবাদী) ঢাকা-৫ আসনে শাহিনুর আক্তার সুমি (২৭), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) খুলনা-৩ আসনে শেখ আরমান হোসেন (৩০) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) সাতক্ষীরা-৩ আসনে রুবেল হোসেন (২৭)। 

অশীতিপর প্রার্থী যারা
এবারের নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সর্বোচ্চ বয়স ৮৮ বছর। এ ছাড়া ৮০ ঊর্ধ্ব প্রার্থীদের মধ্যে আছেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির এম আকবর আলী (৮৬), ঢাকা-১০ আসনে স্বতন্ত্র শাহ আলম (৮৬), কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক (৮৫), নওগাঁ-১ আসনে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মো. আব্দুল হক শাহ্ (৮১), পাবনা-১ আসনে স্বতন্ত্র অধ্যাপক আবু সাইয়িদ (৮২) এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম খান কামাল (৮২)। 

বেড়েছে তরুণ ভোটারও
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ। আর ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোটার ছিলেন আট কোটি ১১ লাখ। অর্থাৎ, সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর এবার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন চার কোটি ৬৬ লাখ। যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তবে ৪৫ বছর বয়সসীমার ভোটার হিসাব করলে এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি ছাড়াবে। 

কারা কী বলছেন
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্র ও তরুণের নেতৃত্বে সংঘটিত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রথম জাতীয় নির্বাচন এটি। ফলে বিশাল সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীর ক্ষমতার শরিক হওয়া ও দেশ গঠনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তরুণ প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবার বেড়েছে। যেটি বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা যায়নি। 

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এসব তরুণ ভোটারের সিংহভাগই এবার প্রথমবার ভোট দেবেন। ২০০৮ সালের পর অনুষ্ঠিত ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল বিতর্কিত এবং একতরফা। এ ছাড়া ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রধান প্রধান বিরোধী দলসহ প্রায় সব দল অংশ নিলেও এই নির্বাচনে আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখায় অনেকেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এই তিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ছিল অনেকটাই কম। আর প্রায় ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোটারের মধ্যে ভোট দেওয়ার বিষয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আর তারা ব্যাপকভাবে ভোট দিলে তরুণ প্রার্থীর পাল্লা ভারী হবে। নতুন ভোটাররা স্বভাবতই তরুণ প্রার্থীর প্রতি সমর্থনও জানাবে বেশি। ফলে এটি অনেক আসনের ভোটের ফলের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। 

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম সমকালকে বলেন, এবার প্রার্থীর বড় একটি অংশ তরুণ। ফলে এবারের নির্বাচনে তারুণ্যের শক্তি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

তিনি বলেন, এবার নতুন ভোটারও বেড়েছে। ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৮ পার হয়েছে– এমন লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবার ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। এসব ভোটারের মধ্যে তরুণ প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যাবে। কেননা, তাদের মধ্যে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ ও সংস্কারের চেতনা কাজ করবে। ফলে যেসব আসনে তরুণ প্রার্থী রয়েছেন, সেসব আসনে নতুন ভোটারের অংশগ্রহণ ভোটের ফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। 

তবে তরুণ ভোটাররা তরুণ প্রার্থীকে বেছে নেবেন– এমন বিষয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেন নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি। তিনি বলেন, তরুণ ভোটার হলেই যে তারা তরুণ প্রার্থীদের ভোট দেবেন, বিষয়টা এমন না। আসলে তরুণ প্রার্থীরা দেখবেন, দল ও প্রার্থীর পক্ষ থেকে তাদের জন্য কী কী অঙ্গীকার করা হচ্ছে। তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা বিধানে যে দল বা প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দেবেন, তরুণরা তাদেরই প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন। 

জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সমকালকে বলেন, নির্বাচনে প্রার্থিতা আর রাজনীতি এক নয়। তাই ভোটারের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞদেরই গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি কিছু তরুণ নেতাকেও প্রার্থী করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেসব তরুণকেই মূল্যায়ন করা হয়েছে, যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতা অর্জন করে সেটাকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারবেন। নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণে আগামী দিনে দেশের সব পর্যায়ের নাগরিক ও ভোটারের প্রত্যাশা ও চাওয়া-পাওয়া বাস্তবায়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বিএনপি আগামীতে আরও তরুণ প্রার্থীকে সামনে আনার প্রচেষ্টা নেবে বলেও জানান সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। 

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, এনসিপি তরুণদের রাজনৈতিক দল। এই দলের সব প্রার্থীই তরুণ। এটাই আমাদের শক্তি। আমরা এনসিপির প্রার্থীদের আসনে গিয়ে ভোটার, বিশেষ করে তরুণ ভোটারের সঙ্গে কথা বলব। আশা করছি, তরুণদের সমর্থন ব্যাপক হারে আদায় করতে সমর্থ হবো।