সিরিয়াতে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সিরীয় সেনাবাহিনী এবং কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে কার্যকর হওয়া এই বর্ধিত মেয়াদের মূল উদ্দেশ্য হলো সাবেক এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত কারাগারগুলো থেকে আইএসআইএল (আইএস) বন্দিদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ তদারকিতে এই বন্দি বিনিময় বা স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।
এই যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের বিষয়টিকে এসডিএফ কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এই চুক্তি সংঘাত নিরসন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দামেস্কের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও মূল সংকট নিয়ে সংশয় কাটেনি। দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের মূলে থাকা এসডিএফ যোদ্ধাদের সরকারি সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে একীভূত করার অমীমাংসিত বিষয়টি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
গত বছরের মার্চ মাসে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এসডিএফ-কে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে সেই চুক্তি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধের জেরে গত কয়েক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সিরীয় সরকারি বাহিনী দ্রুত অগ্রসর হয়ে রাক্কার আল-আকতান কারাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ তেল খনি ও জলবিদ্যুৎ বাঁধগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন উভয় পক্ষকেই এই যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এরই মধ্যে ওয়াশিংটন সিরিয়া থেকে আইএস সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭ হাজার বন্দিকে ইরাকের কারাগারে স্থানান্তরের কাজ শুরু করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় ইরাক সরকারসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। আপাতত এই ১৫ দিনের বিরতি সিরিয়ার রণক্ষেত্রে বড় ধরনের রক্তপাত থামিয়ে রাখলেও, কুর্দি যোদ্ধাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি।
সূত্র: আলজাজিরা।