আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে অসহিষ্ণুতা ও সহিংস প্রবণতা উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, তা না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এ ছাড়া নির্বাচনে অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নমনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বদিউল আলম মজুমদার। একইসঙ্গে তিনি সরকারকে শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।
গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণে অংশীজনের ভূমিকা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
বদিউল আলম মজুমদার তার বক্তব্যে বলেন, গণতন্ত্র মানে সবার সমান সুযোগ, সবার প্রতি সহিষ্ণু আচরণ। আমরা লক্ষ্য করছি বিভিন্ন পক্ষ অন্য পক্ষকে সেই সুযোগটা দিতে চাচ্ছে না। অনেক জায়গায় আমরা লক্ষ্য করেছি যে, অমুক দল, অমুক আসলে আমি আসবো না, অমুক প্রার্থী থাকলে আমি থাকবো না। এটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। আমরা মনে করেছিলাম যে, এর পরিবর্তন হবে। এটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য না। রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, তারা যেন এ মানসিকতা পরিহার করে।
এটা অসহিষ্ণুতা, এ অসহিষ্ণুতা থেকেই সহিংসতার সৃষ্টি হয়। আমরা কোথাও কোথাও দেখেছি ডিম ছোড়া, ময়লা পানি ফেলা, সহিংসতা এখনই যদি বন্ধ না হয়, দলগুলো এবং তাদের প্রার্থীরা যদি এসব থেকে বিরত না থাকে, নির্বাচন কমিশন এবং সরকার যদি এগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে না আনে, তাহলে পরিস্থিতি বেসামাল পর্যায়ে যাবে বলে তিনি জানান।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আরেকটা হলো টাকার খেলা, এই টাকার খেলা, একটা কথা আছে টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায়, এটা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পক্ষ থেকে অনেকগুলো সুপারিশ করেছিলাম। আমাদের একটা প্রস্তাব ছিল যে, নির্বাচন কমিশন যেন প্রতিনিয়ত প্রার্থীদের ব্যয় পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন উপেক্ষা করছে আমাদের এ প্রস্তাব। এই যে টাকার খেলা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে এটা অব্যাহত থাকায় অতীতের ব্যবস্থাই যেন অব্যাহত রেখেছে, সেটা আমরা লক্ষ্য করছি। বিশেষত, ঋণ খেলাপির ক্ষেত্রে এবং দ্বৈত নাগরিকের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে নমনীয়তা প্রদর্শন করেছে সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।