জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াতে নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে দেশেই ছিল, দেশ থেকে কোথাও মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে যায়নি। যে দলের নেতারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসে, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় না। জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা তোমাদের মায়ায় পড়ে গেছে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকতে চাই।’
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গাইবান্ধা পলাশবাড়ী এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে ভাতার লোভ দেখিয়ে ভোট চাইব না। কাজ দিয়ে দেশের বেকার মুক্তা করার প্রতিশ্রুতি দিতে চাই। জামায়াত ক্ষমতা গেলে আমরা বেকারদের কাজের ব্যবস্থা করে দেব।’
কৃষিকে আর পুরান ধাঁচে চালানো হবে না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এখানে আধুনিকায়ন করে, আধুনিক লজিস্টিক সরবরাহ করে ন্যায্যমূল্যে তা কৃষকের হাতে তুলে দিয়ে আমরা এই কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে তুলব।’
কৃষিপণ্য উৎপাদন করার পরে বাজারে তা সঠিক মূল্যে পাওয়া যায় না উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘সংরক্ষণের অভাবে অনেক সময় উৎপাদিত ফসল ধ্বংস হয়ে যায়। এসব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে ফসলের ন্যায্যমূল্য দেওয়া হবে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।’
ফসল ও সবজির সংরক্ষণও নিশ্চিত করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বলেন, ‘জায়গায় জায়গায় ফসল ও সবজির সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে। সারা বছর দেশের মানুষ ন্যায্য দামে কৃষিপণ্যগুলো পাবেন।’
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদা দিতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ জয়যুক্ত না হলে রংপুরে মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে আমাদের বেইমানি করা হবে। আবু সাঈদরা বুক পেতে দিয়েছিল স্বৈরাচার হটানোর জন্য।’
জামায়াত নির্বাচিত হলে যারা চাঁদাবাজি করছেন, তাদের কাজ দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘তাদের আর চাঁদাবাজি করতে হবে না। পাঁচ বছর আমরা এই দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের জন্য জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ওই বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে বিচার অর্থের বিনিময়ে কেনা যায় না, যেখানে ধনী-গরিব-শিক্ষিত সর্ব শিক্ষিত সবার জন্য অধিকার সমান হবে। ওই বাংলাদেশ আমরা চাই যেখানে ধর্মে ধর্মে আর কোনো সংঘাত হবে না।
এসময় জামায়াতের আমির গাইবান্ধা জেলায় একটি ইপিজেড নির্মাণ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বালাশীঘাট ঘাট থেকে বাহাদুররা বাদ ঘাটের জন্য টানেল নির্মাণ, প্রত্যক উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো আধুনিকীকরণ করা, রাজধানীর মতো শিক্ষার মান বাড়াতে উন্নত শিক্ষা পদক্ষেপ গ্রহণ করা, চরাঞ্চলের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী -সাদুল্লাপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। এতে অন্যান্যেরর মধ্যে বক্তব্য দেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাগপা সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম জুয়েল, শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি সিগবাতুল শিগবা ও পাঁচ আসনের মনোনীত প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতারা।
জনসভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন। এসময় তিনি তাদের পক্ষে দাঁড়ি পাল্লা মার্কা ভোট কামনা করেন।