আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রচার কাজে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থী এবং নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। দীর্ঘদিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে এই প্রচার কাজ চললেও তাতে উদ্বেগ ও শঙ্কা পিছু ছাড়ছে না। এরই মধ্যে প্রচারের প্রথম দিনেই বিএনপি নেতাকে গুলি, জামায়াতের প্রার্থীর প্রচার অনুষ্ঠান থেকে অস্ত্রসহ দুজন আটকের ঘটনায় আতঙ্ক আরো বেড়েছে। এতে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ভোটকে ভয়ভীতিমুক্ত ও নিরাপদ করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে উদ্যোগ নিতে জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সব ধরনের হত্যা, সন্ত্রাস, নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, এখনো বলছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব সরকারের প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। আমরা আশা করব, সরকার জনগণকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে, যাতে তারা ভয়ভীতিমুক্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।
গতকাল শুক্রবার দলীয় বিবৃতিতে তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় নিতে জামায়াতে ইসলামী বারবার দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু সরকার সেই দিকে কর্ণপাত করেনি। তফসিল ঘোষণার ঠিক একদিন পরে আধিপত্যবাদবিরোধী জুলাইযোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হলেও সেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আটক করে আজও বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা ফ্যাসিবাদবিরোধী ও নির্বাচনের প্রার্থীদের টার্গেট করছে। দুটি শক্তি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বানচাল করতে গোপন আঁতাত করে ষড়যন্ত্র করছে।
জামায়াত প্রার্থী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তার নির্বাচনি সমাবেশে আওয়ামী লীগের লোগো সম্বলিত গেঞ্জি পরা একজনসহ সন্দেহভাজন তিনজন ঘোরাঘুরি করছিল। পরে তার দেহরক্ষীরা সন্দেহভাজন তিনজনের মধ্যে দুজনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছে ধারালো অস্ত্র পাওয়া যায়। সন্দেহভাজন অপরজন পিস্তলসহ পালিয়ে যায়। আটক দুজনকে তার দেহরক্ষীরা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই চকবাজার থানার সামনে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী ও জামায়াত নেতাকর্মীরা।
নির্বাচনি প্রচারে চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, বৃহস্পতিবারও একজনকে গুলির ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার একেবারেই উদাস
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এখন সরকারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তাদের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। প্রার্থীরাই যেখানে নিরাপত্তাহীনতায় আছে, সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থা আরো অনিশ্চয়তায়। কারণ, আওয়ামী লীগের সময় যেসব অস্ত্র লুট হয়েছিল, তা এখনো উদ্ধার হয়নি। নতুন করে দেশে অস্ত্র আসছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিএনপিতেও। আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচন বানচাল করতে গুপ্ত হামলা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে (৪২) গুলি করে দুর্বৃত্তরা। বিবৃতিতে তিনি হাসান মোল্লাকে গুলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাকে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়ার বিকল্প নেই। তা না হলে তারা আরও বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারে। বিবৃতিতে হাসান মোল্লাসহ অন্য নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান তিনি।