পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে নৌপরিবহণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, পুলিশ এখন আর সাধারণ মানুষকে ডাণ্ডা মারে না, গুলি করে না। আমরা তা করতে দিই না। আমরা চাই পুলিশ মানবিক হোক। আপনারা তাদের সহযোগিতা করবেন এবং শ্রদ্ধা জানাবেন।
বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে গণভোটের প্রচারণা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, বরং রাষ্ট্রে একটি গুণগত পরিবর্তন আনা।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো নিশ্চিত করা না গেলে দেশ পুনরায় আগের অস্থিতিশীল ও বীভৎস পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে পারে।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের নৃশংসতার স্মৃতিচারণ করে উপদেষ্টা বলেন, তরুণদের লাশ ভ্যানে তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো বীভৎস ঘটনা এ দেশে ঘটেছে, যা বিশ্ব দরবারে আমাদের মাথা হেঁট করে দিয়েছে। আমরা কি আবারও সেই অবস্থায় ফিরে যেতে চাই? সেই রক্তের সঙ্গে কেউ বেইমানি করবেন না।
'হ্যাঁ' ভোট ও রাজনৈতিক দলের অবস্থান
জাতীয় পার্টির ‘না’ ভোট দেওয়ার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. সাখাওয়াত বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল যদি প্রকাশ্যে কিছু বলে থাকে, তবে সেটি ভোটাররাই বিবেচনা করবেন। সেই দল কত শতাংশ ভোট পাবে তা আমরা জানি না। তবে আমি বলব, দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের পরিবেশ তৈরি করতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। যদিও ভোট দেওয়ার মালিক জনগণ।’
তিনি আরও যোগ করেন, হ্যাঁ ভোট না দিলে আপনারা একটি বড় সুযোগ (সেঞ্চুরি) মিস করবেন। আমরা দেড় বছর ধরে ক্ষমতায় আছি, কিন্তু ক্ষমতার স্বাদ নিতে আসিনি। আমরা চাই না ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতায় বসে ‘হারকিউলিস’ হয়ে যাক কিংবা যা খুশি তা-ই করুক। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চায়, তারাই ‘না’ ভোটের কথা বলবে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উপদেষ্টা উপস্থিত সুধীজনদের উদ্দেশে বলেন, দেশ কেমন চলছে তা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। আগের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করুন। দেশে এখন কোনো মাফিয়া নেই। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গত রোজায় জিনিসের দাম বাড়ার কথা থাকলেও অভিযান ও তদারকির কারণে তা বাড়েনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের (ডিডিএলজি) উপ-পরিচালক আরাফাত রহমানের সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় প্রশাসন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বিকাল সাড়ে ৩টায় তিনি নীলফামারীর উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করেন।