আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘এবার নির্বাচনে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটছে। প্রথমবার প্রবাসীরা ভোট দিচ্ছেন এবং জাতীয় ভোট ও গণভোট একসঙ্গে হচ্ছে।’
সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন তিনি। এ সময় জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘গত তিনটা নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকার কাউকে ভোট দিতে দেয়নি। একবার রাতের ভোট, একবার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া ভোট এবং একবার আমি-ডামির ভুয়া ভোট। দেশের মানুষের ১৫ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে নিজেরা নিজেদের ইলেকটেড ঘোষণা করে মানুষের উপর নির্মম নির্যাতন চালায়। দেশকে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করেছিল।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম ভ‚মিকার কারণে আমরা নতুন সময়ে উপস্থিত হয়েছি। যেখানে আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। যে সুযোগ কোনোভাবেই হারানো যাবে না। আপনার সরকার আপনি ঠিক করবেন। এটা আগে ঠিক করতো শেখ হাসিনা। এখন দেশের মানুষ এটা ঠিক করবে। আমরা অসাধারণ একটা নির্বাচন অনুষ্ঠান করার চেষ্টা করবো। আমরা যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবো। অন্যের ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করবো না। অন্যকে ভোট দিতে বাধা দিলে আপনারা শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন।’
তিনি বলেন, ‘এমন একটা সিস্টেম ছিল, যেখানে আয়নাঘর, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতো। গুম-খুন, গায়েবি মামলা হতো, জেলে থেকে মারা যেতো। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পর্যন্ত ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এমন ঘটনা যাতে না ঘটে। দেশে যাতে দুর্নীতি না হয়, যাতে দেশের টাকা বিদেশে পাচার না হয়, ব্যাংক লুট না হয়, ভারতের কাছে যাতে নতজানু হয়ে না থাকতে হয়। এজন্য পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। অনেক কাজ হয়েছে।
সবাইকে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে। এবার জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। বৈষম্য, নিপীড়ন, দুর্নীতি দূর করতে “হ্যা” ভোট দিন। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে “হ্যাঁ” ভোট দিন। দুর্নীতি, অনিয়ম, শোষণ দূর করতে “হ্যাঁ” ভোট দিন। আর দলের স্বার্থে গণভোট নয়, দেশের স্বার্থে গণভোট।’