Image description

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির মাহবুব আলমকে মনোনয়ন দেওয়ায় জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একাধিক স্ট্যাটাসে।

জানা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনটি এনসিপিকে দিয়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটোয়ারী।

অন্তত ১০ জন জামায়াতের নেতাকর্মীর দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাঁরা দল হিসেবে এনসিপির বিরোধিতা নয়; বরং প্রার্থী মাহবুব আলমকে মেনে নিতে আপত্তি জানাচ্ছেন। স্ট্যাটাসগুলোতে দাবি করা হয়, মাহবুব আলম সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই এবং ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বাচ্ছু মোল্লার ছেলে। তাঁর ও তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন জামায়াত নেতাকর্মীরা। এছাড়া এই আসনে মাহবুব আলমের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কম এবং রামগঞ্জে এনসিপির সাংগঠনিক অবস্থানও তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হাসান পাটোয়ারী দীর্ঘদিন ধরে দলের দায়িত্বশীল হিসেবে নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন বলে জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি উপজেলার প্রতিটি গ্রাম ও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তাঁর আচার-আচরণ, কথাবার্তা ও সার্বিক কার্যক্রমে ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা অর্জিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

জামায়াতের নেতাকর্মীদের বক্তব্য, জোটগতভাবে যদি নাজমুল হাসান পাটোয়ারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে এ আসনে বিজয় অর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মাহবুব আলমকে মনোনয়ন দিলে বিজয় পাওয়া কঠিন হবে বলে তাঁদের আশঙ্কা। এ অবস্থায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছেন।